বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোন গোলটেবিল বৈঠক বা আলোচনার টেবিলে হয়নি বরং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর দীর্ঘ গনতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল। সুদীর্ঘ ৫২ হতে ৭১ পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলনে সবসময় তিনি সাধারন খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষকে এক কাতারে আনতে পেরেছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ২৪ মার্চ শনিবার টি.এস.সি.সি’র বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি বলেন পৃথিবীর প্রতিটি ঐতিহাসিক ভাষন ছিল লিখিত ও দেখে দেখে পাঠ করা। কিন্তু সোরওয়ার্দী উদ্যানের তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এর যে ঐতিহাসিক ভাষন, তা ছিল বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ। দীর্ঘ ১৯ মিনিটের যে ভাষণটি তা ছিল অলিখিত ও বঙ্গবন্ধু ধারাবাহিকভাবে সে ভাষণ দিয়ে গেছেন। তাঁর ভাষনে ছিল তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের বঞ্চনা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও শোষনের কথা পাশাপাশি ছিল তা থেকে মুক্তি পাবার সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা। তাই জাতিসংঘের ইউনেস্কো ঘোষিত এই ভাষন আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রমাণ্য দলিল হিসাবে স্বীকৃত। দীর্ঘ নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামের সুনিদিষ্ট দিক-নির্দেশনা ও ছিল ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনে। তিনি বলেন স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজও ৭ মার্চের ভাষন বাংলার মানুষকে শিহরিত করে। তিনি আরো বলেন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের আচরনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম বঞ্চনা, লাঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার ছিল পুর্ব পাকিস্তানের মানুষেরা। যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতির চালিকাশক্তি ছিল পুর্ব পাকিস্তানের পাট, চা, চামড়াসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য থেকে। কিন্তুু প্রশাসনিক, রাজনৈতিকসহ প্রতিটি জায়গায় চরমভাবে অবহেলা করা হতো এ অঞ্চলের মানুষদের। বঙ্গবন্ধু এই বৈষম্যের জন্য প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি জানতেন আমাদের জাতি ছিল ঘুমন্ত জাতি। তিনি বাংলার ছাত্রসমাজকে নিয়ে এই ঘুমন্ত জাতিকে জাগানোর জন্য ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন। আর এই ছাত্রলীগ দেশের প্রয়োজনে দেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে প্রতিটি র্কান্তিকালে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন হটকারী সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি প্রতিটি গনতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই করেছেন। তিনি তারই ধারাবাহিকতায় জননেত্রী দেশের ও সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবার জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া তিনি বর্তমান ছাত্রসমাজকে সকল ধরনের জঙ্গীবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস এর বিরুদ্ধে ভয়েস রেস করবার জন্য আহবান জানান ও আত্ম-মর্যাদাশীল জাতি হিসাবে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাড়াতে পারি সেলক্ষে উপস্থিত সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সত্য ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পৈশাচিকতার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভের জন্য এখন থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি অসাম্প্রদায়িক সচেতন মানুষকে করতে হবে। তিনি বলেন বাংলাদেশ আজ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ অনেক কিছুতে পৃথিবীর বুকে একটি রোল মডেল। তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি সৈনিককে চিন্তা, চেতনা, মেধা মনন, গবেষণায় এগিয়ে গিয়ে অলাভজনক কাজ থেকে নিজেদেরকে বিরত রেখে প্রতিক্রিয়াশীলদের পিছনে ফেলার আহবান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল হাই বলেন মার্চ মাসটি সবদিক দিয়েই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গুরুত্বপুর্ণ। এই মাসের ৩ তারিখে সারা দেশে প্রথম পতাকা উত্তোলন করা হয়। ১৭ মার্চ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহন করেন। তাঁর হাত ধরেই বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এদেশ স্বাধীনতা পায় একটি জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত পায়। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল একটি রাজনীতিক মহাকাব্য। বাংলাদেশের সকল সত্তার সাথে বঙ্গবন্ধু মিশে আছে। বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে না জানলে একজন পরিপূর্ণ বাঙালী হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলা যাবে। তিনি দেশ ও জাতি গঠনে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করবার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহবান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে আজ আলাদা ভুখন্ড হিসাবে জায়গা করে নিতে পেরেছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উপনীত হয়েছে। তিনি বলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালী, বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানের জন্য সরকার ঘোষিত ভিশন ২০-২১ এবং রুপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন হলে অচিরেই বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন, বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, আমাদের জননেত্রী দেশরতœ ও সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধিতে ভুষিত এবং তিনি পৃথিবীর দ্বিতীয় সেরা সৎ দক্ষ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন যদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হলে বার বার দরকার শেখ হাসিনার সরকার । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদযাপন উপ-কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোহাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগ ইবি শাখার সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন ও সাধারন সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর ড. শামসুল আলম, প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মাহবুবল আরফিন, প্রফেসর ড. জাকাারিয়া রহমান, প্রফেসর ড. নাসিম বানু, প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলী, গ্রন্হাগারিক (ভারঃ) আতাউর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক(ভারঃ) এইচ এম আলী হাসান, প্রধান প্রকৌশলী (ভারঃ) আলিমুজামান খান, হিসাব পরিচালক (ভারঃ) আকামুদ্দিন বিশ্বাস, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে আজাদসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র –ছাত্রী ও ছাএলীগ ইবি শাখার নেতা-কমীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান ও তিয়াশা চাকমা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
বিডি টাইম্‌স নিউজ

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে