জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা।। ভারত থেকে চাল আমদানি খবরে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ ধান-চালের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ধান ও চালের দাম কমতে শুরু করেছে।গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধান মন প্রতি ৪০- ৫০ টাকা ও চালে বস্তাপ্রতি(৫০ কেজি) ১০০ টাকা কমেছে।
বাজারে চালের দাম কমায় সরকারি গুদামে চাল সংগ্রহে সু-বাতাস বইছে। সরকারি মুল্যের তুলনায় বাজার মুল্য কিছুটা বেশী থাকায় মিলারগণ এতদিন সরকারি গুদামে চাল দিতে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। দাম কমায় তারা এখন সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে দিকে ঝুঁকছে। এতে করে গত দুই বছর সংগ্রহ অভিযান লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও মিলারদের এমন আগ্রহ বৃদ্ধিতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছে খাদ্য বিভাগ।খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহে মিলারদের আগ্রহ ও চালের গুনগত মান সন্তোষজনক হওয়ায় আরো ৪ হাজার টন চাল সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারত থেকে চাল আমদানির খবরে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বৃহৎ চাল উৎপাদনকারি এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চালের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালে কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এদিকে গত ৩ বছর যাবত চালের বাজার মুল্য, সরকারি সংগ্রহ মুল্যের চেয়ে বেশি থাকায় মিলারগণ লোকসানের কথা বলে সরকারি গুদামে চাল দিতে আগ্রহী ছিল না। ফলে গত ৩ বছর বিভিন্ন মৌসুমে সরকারি সংগ্রহ অভিযান শতভাগ সফল হয়নি।
খাদ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২০ সনে আমন মৌসুমে ১১,১৬৮ টনের বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছিল মাত্র ৪৪৮ টন, বোরো মৌসুমে ২৮৩৩১ টনের বিপরীতে ২৭০৩১ টন, ২০২১ সনে বোরো মৌসুমে ৩৫,৫১৮ টনের বিপরীতে ৩২,২৩৮ টন। চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৩১ হাজার মেটিন চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খাদ্য বিভাগ ১৮৫ জন মিল মালিকের সাথে চুক্তি করে। মৌসুমের শুরুতে মিলারগণ চাল দিতে খুব একটা আগ্রহী ছিলনা। তবে গত ১৬ মে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে গত আড়াই মাসে প্রায় ২০,১৪৯ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। বাজারে চালের দাম কমায় মিলারগণ সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহে আগ্রহ বাড়ছে। সরকারি বিভিন্ন গুদামে পাঠানো চালের গুনগতমান সন্তোষজনক হওয়ায় খাদ্য বিভাগ আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামের বিপরীতে অতিরিক্ত আরো ৪ হাজার টন চাল সরবরাহের জন্য অনুমতি দিয়েছে।
বিশিষ্ট ধান চাল ব্যবসায়ী হাসান ইমরান জানান ভারত থেকে চাল আমদানির খবরে বাজারে ধান চালের দাম কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে চালের বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ১০০ টাকা কমেছে।এতে করে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে মিল মালিকরা আগ্রহি হয়েছে। চলতি বুরো মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি চাল ৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও বর্তমানে চালের বাজার মূল্য প্রায় ৪৩/৪৪ টাকা। তারপরও লোকসান দিয়ে মিল মালিকরা আশুগঞ্জ মোকামে চালের গুনতমান অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে গুদামে চাল সরবরাহ করে আসছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা চাতালকল মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: উবায়দুল্লাহ বলেন, আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামের ধারন ক্ষমতা ২৫‘শ টন।কিন্তু গত আড়াই মাসে ২০১৪৯ টন চাল সংগ্রহের নিমিত্তে চট্টগ্রাম বিভাগের হালিশহর ও দেওয়ান খাট সিএসডিসহ অন্যান্য বিভিন্ন খাদ্য গুদামে ১৭৪০০ টন চাল প্রেরণ করা হয়েছে। উধ্বর্থন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে খাদ্য গুদামগুলো পরিদর্শনকালে আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামের প্রেরিত চাল দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ’ব্যাপারে জেলা অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: মনিরুল ইসলাম ভুইয়া জানান, ভারতীয় চাল আমদানির খবরে আশুগঞ্জ মোকামে চালের দাম প্রতি কেজিতে ২/৩ টাকা কমে যাওয়ায় মিল মালিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।দাম কমায় মিল মালিকরা এখন সরকারি সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছে। চালের গুনগত মান সন্তোষজনক হওয়ায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আরো ৪ হাজার টন বাড়িয়ে দিয়েছে খাদ্য বিভাগ।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো: জাকারিয়া মোস্তফা জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিটি গুদামে সরকারি বিধি মোতাবেক চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামের অনুকুলে চাল সরবরাহ আরো ৪ হাজার টন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মিলাররা গুদামে চাল সরবরাহে আগ্রহ বেড়েছে এবং সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়ানো দাবী করেছে।তিনি বলেন তাদের দাবী প্রস্তাব আকারে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষে কাছে পাঠানো হবে। তিনি এবছর ধান চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন শতভাগ সফল হওয়ার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ
























