সোহেল রানা ডালিম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।।
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে সরকারি বেসরকারি অফিস ও কর্মকর্তাদের বাসভবন গুলোতে বিদ্যুৎ অপচয়ের প্রতিযোগিতা চলছে। যেখানে সরকার বিদ্যুৎ অপচ রোধে নানাবিধি কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সেখানে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার প্রতিফলন দেখো যাচ্ছে না বিন্দু মাত্র।

জেলাজুড়ে প্রাই সকল প্রতিষ্ঠানেই রাতভর জ্বলছে অতি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সার্চলাইটসহ হাজার হাজার বৈদ্যুতিক বাল্ব। এছাড়াও কর্মকর্তাদের বাসভবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য হরেক রকমের বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে সারা রাত ধরে। কোন কোন কর্মকর্তার বাস ভবনের প্রধান গেটের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যেই জ্বলছে একাধিক বাল্ব। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনাগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন হবে সেটা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। তবে জেলা প্রশাসক বললেন প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যাবহার বন্ধে এখন থেকে আরও কঠোর অবস্থান নেবে স্থানীয় প্রশাসন।

জানা যায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে-এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধাবস্থা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তিনি আশা করছেন এই সময়ের পর জাতীয় গ্রিডে আরও ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে পারে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে দুই হাজার মেগাওয়াটের মতো। সরকার বলছে আমরা যদি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পারি তাহলে ঘাটতি ৫শ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ অপচয় রোধে অফিস সময় কমিয়ে আনার কথা ভাবছে সরকার। সরকার বলছে বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করতে পারলে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকবে ৫০০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, বাসাবাড়ি, অফিসে ব্যবহার করার এসি ২৫’ডিগ্রির নিচে চালানো যাবে না, কোন ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না, বিয়েসহ সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, অফিস সময় কমানোসহ আরও কিছু বিষয় আছে। অফিস সময় করোনার সময় যেমন ছিল ৯টা থেকে তিনটা, মানে পিক আওয়ারের আগে অফিস শেষ করা নিয়ে ভাবছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তথ্য বলছে, এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে অনুমোদন পেলেই কর্যকর হবে এ’সকল সিদ্ধান্ত সংবাদ সংগ্রহের কাজে গত সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানয়
গিয়েছিলাম। দেখি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহাব্বুর রহমান কাজল নিজ হাতে অপ্রয়োজনিয় লাইট ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে দিলেন। তার এই সচেতনতামূলক কাজটি দেখে জেলার অন্যান্য অফিসগুলো বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষযটি নিয়ে কতটা স্বজাগ সে বিষয়ে সরেজমিনে দেখতে গত দুই রাত চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবনের আলোকসজ্জা দেখে হতভম্ব হতে হয়েছে।

খোদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বাস ভবন, জেলা জজ আদালত ও জেলা জজের বাসভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয ও বাসভবন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয় ও বাসভবন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সরকারি কলেজ, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস, পৌরসভা, সার্কিট হাউজে পুলিশ লাইন্স, আবহাওয়া অফিস, সড়ক বিভাগে সারারাত জ্বলছে হাজার হাজার বৈদ্যুতিক বাল্ব। এতে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অপচয় হয় তার সঠিক হিসেব ওজোপাডিকোর হাতেও নেই। অথচ এসকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতেই রয়েছে একাধিক নৈশ প্রহরী। তবে সাধারণ জনগণের দাবী নৈশ প্রহরীরা যদি টস লাইট নিয়ে সঠিকভাবে তাদের কাজ সম্পাদন করেন তাহলে এতো পরিমান বৈদ্বদিক বাল্ব জ্বালানোর কনো প্রয়োজন নেই। ফলে এই জেলা থেকেই সেভ করা যাবে কয়েকশ মেগাওয়াট বিদ্যুত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ সকল প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনের সাথে কথা হলে বিদ্যুৎ অপচয়ের কথাটা স্বীকার করে তারাও বলেন প্রতিটা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ দুই-একটি বাল্ব জালালেই চলে। রাতভর এত বাল্ব জ্বালানোর কোন প্রয়োজন দেখেন না তারা। তবে জেলার সুদি সমাজের অনেকেই সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ অপচয়ের এ’ধরণের কর্মকান্ডে মর্মহত হয়ে বলেছেন, জেলার যেসকল প্রতিষ্ঠানকে আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ এসকল প্রতিষ্ঠানই সরকারের সকল কার্যক্রম জেলাজুড়ে পালন করে থাকে। তবে সেই সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সরকারি নির্দেশনা এড়িয়ে যান তাহলে সমাজে ভালো ম্যাসেজ যায় না। তারা আরও বলেন, বরং ওই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো আগে বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করে দুষ্টান্ত স্থাপন করবেন তার পর অন্যান্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মনোযোগ দিবেন।

তবে এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খাঁন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুত ব্যবহার করা ঠিক হচ্চে না। দেশের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। তাছাড়াও সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্টানে বিদ্যুৎ অপচয় না করার জন্য যথাযথ বার্তা পাঠানোসহ পরবর্তী সকল সভা সেমিনারে এ বিষয়ে আরও গুরুত্বসহকারে সকলকে বলা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে