জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।।
দুই দিনের টানা বৃস্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সীমান্ত এলাকার অন্তত ১৬ টি গ্রামের নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে কর্ণেল বাজার এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। পানির তোড়ে বাঁধ সংলগ্ন কেটি পীচ ঢালাই সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর থেকে বৃস্টি শুরম্ন হয়ে টানা বৃষ্টি হয়। শনিবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, টানা বৃষ্টি আর ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পানিতে মোগড়া ইউনিয়নের নিলাখাদ, ছয়গড়িয়া, খলাপাড়া, জয়নগর, মনিয়ন্দ ইউনিয়নের আইড়ল, ইটনা, খারকুট, বড় লৌহঘর, ছোট লৌহঘর ও বড় গাঙ্গাইল এবং আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, আব্দুল্লাহপুর ও বঙ্গের চড় গ্রামের নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। কিছু কিছু এলাকায় গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় সীমান্তবর্তী এসব গ্রামের মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। বাড়িঘরে পানি ঢুকে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। অন্যদিকে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের চেকপোস্ট এলাকায় সড়কে পানি উঠেছে। কাস্টমস অফিসের সামনে পানি জমেছে। স্থলবন্দর এলাকায় আমদানি রপ্তানিকারকদের অফিস ও দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে। চেকপোষ্টের ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে পানি জমে রয়েছে। বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় ২৮টি পরিবারকে আব্দল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দিয়েছেন প্রশাসন।

আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কের একাংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে আখাউড়া স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম। গত দুদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমা, উপজেলা আওয়ামীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজল,মনিয়ন্দ ইউপি চেয়ারম্যান দীপক চৌধুরী, মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন হাওড়া বাঁধ এলাকাসহ পানিতে তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন।

উল্লেখ্য যে, গত শনিবার দুপুরে উপজেলার হাওড়া নদীর বাঁধ ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম তিনি জানান, বন্যা পরবর্তী আমাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট রয়েছে এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কে নিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে। তাছাড়া একটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখানে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এদিকে, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন, আংশিক এ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ২৮টি পরিবারকে একটি স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে ৩০ কেজি চাল ও নগদ ১ হাজার ৫ শ টাকা করে দেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে