জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। ঘরের ভিতরে খাটের ওপর বসা ইয়াছিন মিয়ার পরিবার।গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে বাড়ির ওঠানের সামনে। আর সে বৃষ্টি জানালা দিয়ে ওকি মেরে দেখছিল ইয়াছিন মিয়ার পরিবার। এচিত্রটি আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কেন্দুয়াই গ্রামেের। ইয়াছিন মিয়া টিনের দোচালা একটি ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে। গত শুক্রবার বাধ ভেঙ্গে ঘরের চারপাশে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পানি নেমে আসে। উঠানে রান্নার জন্য তৈরী করা চুলা সেই পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই দুইদিন ধরে রান্না বন্ধ। খাটের ওপর জানালার পাশে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বসে আছেন ইয়াছিন মিয়া।তার সাথে আলাপ করে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানির কারণে পরিবারটি খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব নিয়ে চিন্তিত। ইয়াছিনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কেন্দুয়াই গ্রামে। রোববার বিকেলে ইয়াছিনের মতো এই গ্রামের আরো অনেক পরিবারকে পানিবন্দী অবস্থায় দেখা যায় । তখনও বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে পানি আরও বাড়লে কি অবস্থা দাঁড়াবে, তা নিয়েপরিবারের সদস্যদের যেন চিন্তার অন্ত নেই।
আখাউড়া ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আখাউড়ায় প্রবেশ করতে শুরু করে। রোববার পর্যন্ত ঢলের পানিতে আখাউড়ার দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, আবদুল্লাহপুর, বীরচন্দ্রপুর, বঙ্গেরচর, সাহেবনগর ও কেন্দুয়াই গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাত তিনটার দিকে ঢলের পানির তোড়ে উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বাজারের পাশা হাওড়া বাঁধ ভাঙতে শুরু করে। প্রচুর বেগে ও অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করার কারণে উপজেলার ১০৯টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। রোববার বেলা তিনটার দিকে আখাউড়ার দক্ষিণ ইউনিয়নের মেলার মাঠের পাশা কেন্দুয়াই গ্রামে দেখা যায়, চারপাশে পানি। কোমর সমান পানিতে কেন্দুয়া গ্রামের রমজান মিয়া, মুখলেছুর রহমান, আবুল কাশেমসহ বেশ কয়েকজনের পরিবারকে পানিবন্দী অবস্থায় দেখা যায়। প্রত্যেকের ঘরের সামনে পানি ওঠে গিয়ে তাদেরকে বন্দিদশায় ফেলে দেয়।
বাড়ির উঠানে থাকা রান্নার চুলা তলিয়ে গেছে ঢলের পানিতে। তাই তারা রান্না করে খাবার খাওয়ার কোন সুযোগ নেই। ইয়াছিন মিয়া নামে এক বাসিন্দা জানান,পেশায় তিনি একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। পানির কারনে ঘর থেকে বের হইতে না পারার কারণে এখন তাঁর রোজগার বন্ধ। পানি আরও বাড়লে তা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করবে,তখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তাকে অন্যত্র চলে যেতে হবে। ইয়াছিনের স্ত্রী মাইফুল বেগম বলেন,তারা গত দুই দিন ধরে রান্নার অভাবে শুকনা খাবার খাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পায়নী তারা। একটি সংগঠন থেকে কিছু খাবার পেয়েছি । নলকূপের একাংশ ঢলের পানিতে ডুবে যাওয়ায় আর কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে ঐ নলকূপের পানিই পান করছেন তারা।
আখাউড়ার ইউএনও অংগ্যজাই চাকমা বলেন, উপজেলার ৯টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ১৮২টি পরিবার এখন পানিবন্দী। ২৮টি পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি চাল ও দেড় হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ























