সাইফুল স্বপন, লক্ষ্মীপুর।। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠ’সহকারীদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে ৭০০’ব্যক্তিকে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এমন কি বেশী ভাগ গ্রাহকের ঋণের টাকা অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত’চার বছরে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা উদ্যোক্তা ঋণ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় (অডিট) বিষয়টি ধরা পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর লরেন্সের মাঠ সহকারী মাইন উদ্দিন, চরমার্টিনের আবুল কালাম,চরকালকিনির কামাল উদ্দিন,পাটারির হাটের আবদুল খালেক সুমন, চরকাদিরার ইসমাইল হোসেন, শামিম হাসান ভূঁইয়া ও হাজিরহাট ইউনিয়নের ইশতিয়াক হোসেন বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ঋণ অনুমোদন করানোর অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা কিছু (৫০-৫০০) টাকা সঞ্চয় করে প্রথমে ভুয়া সমিতি গঠন করেন। এ ক্ষেত্রে নদীভাঙা মানুষের অগোচরে নাম-পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। পরে সমিতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ঋণ তোলা হয়। একেকটি সমিতির গ্রাহক থাকে ২০-৬০’জন। একেকজনকে ২০’হাজার থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ ৫০’হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। তবে এখানে সর্বোচ্চ এক লাখ ৫০’হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাঠ সহকারীদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা ঋণের টাকা জমা না দিয়ে পকেট ভারী করার ১৫টি অভিযোগ এসেছে এই প্রতিবেদকের কাছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের দুজন কর্মকর্তা জানান, কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ২০২০ সালের ৮’ই অক্টোবর যোগ দেন। অথচ ২০১৮ সালের ১৮’ই নভেম্বর, ১২’ই ডিসেম্বর ও ২০১৯ সালের ২৩’শে ডিসেম্বর’সহ বিভিন্ন সময়ে ঋণ ফরমে কামরুজ্জামানের সই ও সিল ব্যবহার করা হয়। তাঁর সই জাল করে চরকালকিনির খানপাড়া সমিতির মো. ইউসুফ ৫০ হাজার টাকা, চরলরেন্সের আলতাফ হোসেন ৫০ হাজার টাকা ও তোরাবগঞ্জের নুর হোসেনকে ৭০’হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইউএনওর সই ছাড়াই মোস্তাফিজুর রহমান ফারুককে এক লাখ ৫০’হাজার টাকা, তোরাবগঞ্জের আবদুল মালেককে এক লাখ ৫০’হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। সাবেক ইউএনও ইমতিয়াজ হোসেনের সই জাল করে পাটারির হাটের মো. হান্নানকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। তাদের এভাবে প্রত্যেককে ঋণ দেওয়া হয়েছে।ব্যাংক সূত্র জানায়, এ শাখা থেকে ১৬ কোটি পাঁচ লাখ ৮১ হাজার টাকা গ্রাহকরা ঋণ নিয়েছেন। এতে আট কোটি ৮৩ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ-সাত বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণখেলাপি তিন কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও এক বছরের চার কোটি ৯৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। গত বুধবার নিরীক্ষায় ৪৫ লাখ টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়ে ব্যাংকে জমা না দেওয়ার সত্যতা মেলে। পরে নিরীক্ষকদলের নির্দেশে ওই টাকা ব্যাংকে জমা দেন মাঠকর্মীরা।গ্রাহক নিজাম উদ্দিন সোহেল বলেন, ‘চরলরেন্সের মাঠ সহকারী মাইন উদ্দিন আমার ১৯ হাজার টাকা নিয়ে ব্যাংকে জমা দেননি নিরীক্ষক ও ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কাছে বিচার দিলে তিনি ওই টাকা জমা দেন।’।

হাওলাদার পাড়া সমিতি’র সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছে ২১হাজার ৬ শত টাকা অথচ মাইন উদ্দীন অফিসে জমা দিয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা, বটু চৌধুরী বলেন ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৩২ হাজার ৪শত টাকা জমা দিয়েছি অথচ অফিসে ২২,৪০০ টাকা চর লরেন্সের মাঠকর্মী মাইন উদ্দিন আদায় করা ঋণের টাকা জমা দেননি। হাওলাদার পাড়া সমিতির সাবেক সভাপতি মোশারেফ হাওলাদার জানান মাইন উদ্দীন এলাকা একটি সিন্ডিকেট গঠন করে দূনীতি অনিয়মের করে আসছে আমি প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে থানা মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে পুলিশী হয়রানি করে আমাকে শেষ পর্যন্ত নিরউপায় হয়ে সমিতি’র সভাপতি পদ ও সদস্য পদ প্রত্যহার করে নিই। মাইন উদ্দীন নামে বেনামে ঋণ নিয়ে এলাকা ৫০ লাখ টাকা ১০ টাকা সুূদে দিয়ে রেখেছে।

স্থানীয়রা জানান মাইন উদ্দীন আবুল কালাম, কামাল উদ্দীন কমলনগরের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে চাকুরী পাওয়ার পর থেকে এরা যেন আঙুল পুলে কলাগাছ হয়েছে তাদের বিলাসী জীবন চলাফেরা স্থানীয় দের কাছে আলাদীনের চেরাগ মত অবস্থা । এ বিষয়ে মাইন উদ্দিনের বক্তব্য জানতে কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে মাঠসহকারী ইশতিয়াক হোসেন বলেন, ‘জালিয়াতির সঙ্গে আমি জড়িত নই।’শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘মাঠ সহকর্মীরা নতুন নতুন নাম দিয়ে সামান্য কিছু টাকা জমা দেন। তাঁরাই টাকা নিয়ে গ্রাহকদের দেওয়ার জন্য চাচ্ছেন। গ্রাহকদের সশরীরে উপস্থিত করার জন্য বলা হলেও তা করতে পারছেন না। এ জন্য তাঁরা আমাকে বদলি করানোসহ বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন।’ইউএনও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ব্যাংকের অনিয়ম ও মাঠ সহকারীদের জালিয়াতি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে