জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা।। কোনোভাবেই থামছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং। প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে অথচ বিতরণ কোম্পানি প্রতিযোগিতা করছে লোডশেডিংয়ের। এ যেন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ইফতার, তারাবিহ ও সাহরির সময়েও বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া যখন তখন বিদ্যুৎ না থাকায় মাহে রমজানের এ সময়ে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা চরম ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে তারাবিহ নামাজের সময়, সাহরি ও ইফতারের সময় বিদ্যুতের ভেলকিবাজি মানুষ মেনে নিতে পারছেন না।গ্রাহকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট আখাউড়ায় পুরোনো সমস্যা। দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যার কোনো সুষ্ঠু সমাধান পাচ্ছে না উপজেলাবাসী। তার উপর রোজার প্রথম দিন থেকে অতিমাত্রায়  লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

তারাবি নামাজের জামাত শেষে কয়েকজন মুসল্লী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মুসল্লীদের কষ্ট দেয়ার জন্য ইচ্ছেকৃতভাবে এটা করছে। দিন রাত ২৪ ঘন্টার যন্ত্রণা দিয়েও শান্তি পাচ্ছে না তাই এই রোজার মাসে বেছে বেছে নামাজ, ইফতার ও সাহরির সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করে কষ্ট দিচ্ছে মুসল্লীদের। পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ তাঁরা। দিনের বেলা প্রতি ঘণ্টায় তিন-চারবার বিদ্যুৎ যায়-আসে। কখনো এই লুকোচুরি মিনিটে মিনিটে চলে চলে। বিশেষ করে মাহে রমজানের প্রথম দিন থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে, এটা নজিরবিহীন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা সমালোচনার পাশাপাশি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে আখাউড়া পল্লী বিদ্যুতের সক্ষমতা নিয়ে।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে আখাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম আবুল বাশার বলেন, সমস্যা সমাধানে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। গত শনিবার থেকে গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। এতে করে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুতের কিছুটা ঘাটতি হচ্ছে। আমাদের অধিনে মোট ২৫-২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন, সেখানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ১৫-২০ মেগাওয়াট। তাই এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে আমরা বদ্ধপরিকর বলেও জানান এই বিদ্যুৎ কর্মকর্তা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে