স্টাফ রিপোর্টার, লক্ষীপুর।। 
লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদল ১১’সদস্য কমিটি দিয়ে চলছে ৪’বছর। ২’বছরের কমিটি ৪’বছর পার হলেও লক্ষীপুর জেলা কমিটি র্পূনাঙ্গ না করা, লক্ষীপুর সদর, লক্ষীপুর পৌর, লক্ষীপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও রায়পুর উপজেলা সহ ৭’টি ইউনিট কমিটি ৫/৬ বছর হলেও কমিটি দিতে র্ব্যাথ হয়েছে ছাত্রদলের র্বতমান নেতৃত্ব। ইউনিট কমিটি দিতে র্ব্যাথ হওয়ায় বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা ছাত্রদলের পাশাপাশি অন্যন্য সহযোগি সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছে। ছাত্রদলের ১১ সদস্যের ৮ জনই বিবাহিত, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। যার কারণে লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। দলীয় বিভিন্ন র্কমসূচিতে ছাত্রদলের নেতার্কমীদের উপস্থিতি কমছে।

২০১৮ সালের জুন মাসে হাসান মাহমুদ ইব্রাহিমকে সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন কে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্যদের আংশিক লক্ষীপুর জেলা কমিটি ঘোষনা করা হয়। কমিটির অন্যনা সদস্য হলেন সিনিয়র’সহ সভাপতি আব্দুর রহিম রাজন সহ সভাপতি জাহিদ হাসান মিশন, গাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মীর মোশারফ হোসেন আরাফাত, কামাল উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম সোহেল সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ান হোসেন আকবর। এই ১১ সদস্যের মধ্য সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান মিশন ২০১৯ সাল থেকে সদর র্পূব উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও সম্প্রতি ঘোষিত লক্ষীপুর জেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বিদেশে থাকে, মীর মোশরাফ হোসেন আরাফাত ঢাকায় নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যাস্ত,আমজাদ হোসেন লক্ষীপুর বারের কার্য নির্বাহী সদস্য যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক
ফখরুল ইসলাম সোহেল র্দীঘদিন ধরে প্রবাসি। জেলা ছাত্রদলের ১১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল রহিম রাজন, এ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ছাড়া ৮ জনই বিবাহিত।

গত ২১ বছরে লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের ৩ টি কমিটি হলেও একই সময়ে লক্ষীপুরজেলা ছাত্রলীগের ৬’টি কমিটির র্কাযক্রম শেষ হয়ে ৭ম কমিটি গঠনের র্কাযক্রম চলছে। ২১ বছরে জেলা ছাত্রদলের ৩ টি জেলা কমিটি গঠন ও পূনাঙ্গ করতে না পারায় ক্ষোভ রয়েছে দলীয় নেতার্কমীদের। তারা বলেন ২১ বছরে অনন্ত ১০ জেলা কমিটি হওয়ার কথা সেখানে হয়েছে মাত্র ৩ টি জেলা কমিটি। ২০১৬ সালে আমির আহমেদ রাজু সভাপতি আব্দুল মজিদ কে সাধারণ সম্পাদক করে লক্ষীপুর সদর পশ্চিম উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর মাসে দেলোয়ার হোসেন শিমুলকে আহবায়ক ও সোহরাব হোসেন বুলেটকে যুগ্ন আহবায়ক করে পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

২০১৭ সালে শাহরিয়ার ফয়সাল সভাপতি সাইফুল আলম ফিরোজ সাধারণ সম্পাদক করে রায়পুর উপজেলা ছাত্রলের কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৮ সালে আদনান সোহেল আহবায়ক বোরহান উদ্দিন মিলকে যুগ্ন আহবায়ক করে সদর র্পূব উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৮ সালে আব্দুল্লাহ আল খালেদ সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল সাধারণ সম্পাদক করে লক্ষীপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কমিটি গঠন করা হয়। রায়পুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহরিয়ার ফয়সাল র্বতমানে রায়পুর উপজেলা স্বে”ছাসেবক দলের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক বিবাহিত। আর বিবাহিতরা আগামী দিনে ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটির ভাইটাল পদে আসতে পারবে বিধায় তারা নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে।ছাত্রদলের কলেজ উপজেলা ও পৌর কমিটির মেয়াদ ২ বছর থাকলেও এক একটা কমিটি ৫-৭ বছর পার করলেও র্বতমান লক্ষীপুর জেলা কমিটি সভাপতি ও সাধারণের র্অন্তকোন্দলের কারণে কমিটি দিতে পারছে না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিট নেতা জানান।

লক্ষীপুর সদর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আমির আহমেদ রাজু বলেন লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের খামখেয়ালী পনার কারণে লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটি পূনাঙ্গ ও বিভিন্ন ইউনিট কমিটি দিতে র্ব্যাথ হয়েছে। লক্ষীপুর পৈার ছাত্রদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন বুলেট বলেন বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা কমিটি দিতে ব্যার্থ হয়েছে। ছাত্রদলের শতাধিক নেতার্কমী ১০/১২ বছর ধরে ছাত্রদল করে আন্দোলন সংগ্রাম করলে দলীয় পরিচয় সংকটে ভ‚গছে। আর জেলা কমিটি ৪ বছর কমিটি দিতে র্ব্যাথ হওয়া নতুন জেলা কমিটি গঠন করার দাবি জানান।

লক্ষীপুর সদর র্পূব উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আদনান সোহেল জানান আমাদের কমিটি মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে জানান আমাদের কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি দেওয়া জন্য। বারবার বলার পর জেলা ছাত্রদল ৪ বছরেও পূনাঙ্গ করতে পারেনি। ছাত্রদলের এক নেতা নাম না প্রকাশ করার র্শতে জানান লক্ষীপুর সরকারী কলেজে জেলা সাধারণ সম্পাদক তার পছন্দের র্প্রাথীকে কলেজের ছাত্রত্ব না থাকা সত্তে¡ও নেতা বানানোর জন্য লক্ষীপুর সরকারী কলেজের ১ বছরের কমিটি ৫ বছর হওয়ার পরও নতুন কমিটি দিচ্ছে না। এ নিয়ে লক্ষীপুর সরকারী কলেজের পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন র্নিদেশনার কারণে তারা জেলা ছাত্রদলের পূণাঙ্গ কমিটি করতে র্ব্যাথ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিভিন্ন ইউনিট কমিটি ৫/৭ বছর হলে ও সেখানে নতুন কমিটি না দেওয়া বিষয়ে বলেন আমরা কাজ করছি আগামী কিছু দিনের মধ্যে কমিটি গুলো দেওয়া হবে। লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম বলেন বিভিন্ন কারণে লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটি পূর্নাঙ্গ করা সম্ভব হয় নাই, আশা করি সহসাই লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটি পূর্নাঙ্গ করা হবে।

লক্ষীপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সজিব আমরা বারবার তাগিদ দিয়েছি কি কারণে তারা কমিটি দিতে দেরি করছে বিষয়টি তাদের সাথে কথা বলবো। কলেজ কমিটিতে অছাত্রের দিয়ে কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন ছাত্রত্ব ছাড়া কাউকে দিয়ে কোন কমিটি হবে না। অচিরেই লক্ষীপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটি পূনাঙ্গ হবে বলে তিনি জানান।

লক্ষীপুর নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে