জহির সিকদার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নদীর পানি ডিজেল চালিত মেশিনে পাইপ সংযোগের মাধ্যমে সেচে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীতে থাকা পোনাসহ ছোট-বড় সব রকমের মাছ ধরে নিধন করা হচ্ছে। আর এ’নিধন কাজটি করা হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের পুটিয়া সেতুর দুই পাশে নদীতে বাঁধ দিয়ে। ফলে, সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী হাওর এলাকার উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় জাতের মাছের বংশবৃদ্ধি এবং সেই সাথে একটি সেতু হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুটিয়া সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীর পানিতে ও তার তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ দেওয়া হয়েছে। মেশিনের সাহায্যে বিশাল এলাকাজুড়ে নদীর পানি শুকিয়ে মাছ নিধন তো করছেই, পাশাপাশি নদীর পানি সেচার কারনে কৃষিজমিতে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। সেচকাজে নিয়োজিত আবদুর রাজ্জাক বলেন, সেতুর দুই পাশে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর পানি ছিল। এখন ১০-১২ ফুট আছে। আরও এক সপ্তাহ লাগবে পানি শুকাতে। দুর্গাচারণ দাশের কাছ থেকে তিনি ২৫’লাখ টাকায় ১’বছরের জন্য এ জলাশয় জমা নিয়েছেন বলে দাবি করেন। এলাকার মৎস্যজীবী ও কৃষকদের অভিযোগ, কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ গ্রামের দুর্গাচরণ দাসের নেতৃত্বে ১১’বছর ধরে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পুটিয়া নদীতে সেচ দিয়ে নির্বিচারে মাছ নিধন চলছে। সেচের কারণে নদীর পানি শুকিয়ে যায়, এতে কৃষিজমিতে পানির সংকট দেখা দেয়। এ’বিষয়ে সরাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাইমোনা জাহান বলেন, এভাবে উন্মুক্ত গভীর জলাশয়ে সেচ দিয়ে শুকিয়ে মাছ নিধন আইন অনুসারে নিষিদ্ধ। খোঁজখবর নিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ’ব্যাপারে দুর্গাচরণ বলেন, ‘এখানে মাছ ধরার জন্য সরকারকে এক বছরের জন্য রাজস্ব দিয়েছি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৭৮০ টাকা। সেচ না দিলে এত টাকা উশুল করব কেমন করে। ’আইনের বাইরে আমি কোনকিছু করিনী।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াছমীন বলেন, বাঁধ দিয়ে নিচের পানি শুকিয়ে দিলে সেতুটি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক বলেন, খোঁজখবর নিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে