জহির সিকদার, ব্রাহ্মনবাড়িয়া প্রতিনিধি।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে স্বেচ্ছায় জমি, অর্থ ও শ্রম দিয়ে আড়াই কিলোমিটার স্বপ্নের রাস্তা নির্মাণ করেছেন এলাকাবাসী। উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে নির্মিত রাস্তাটি পরমানন্দপুর গ্রাম থেকে ষাটবাড়িয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। শত বছরের কাঙ্ক্ষিত পরমানন্দপুর গ্রাম থেকে ষাটবাড়িয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন এই রাস্তাটি গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। আর তাতে কেউ দিয়েছে জমি,কেউ দিয়েছে অর্থ আবার কেউ দিয়েছে শ্রম। সবকিছু মিলিয়ে তৈরী হয়েছে রাস্তাটি। গ্রামবাসী রাস্তাটিকে স্বপ্নের রাস্তা বলে উল্লেখ করেন। গত রোববার সন্ধায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে নির্মিত রাস্তাটি। উদ্বোধন করেন পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কাউছার হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় স্বেচ্ছাশ্রমের বিনিময়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে।রাস্তার জন্য দুই গ্রামের ৪৭জন কৃষক তাঁদের জমির একাংশ দান করেন। এরপর গ্রামবাসী মাটি ভরাটের জন্য বিভিন্ন লোকজনের নিকট থেকে ৮ লাখ টাকা চাঁদা তুলেন। তাঁরা জানান, ১৫ দিনে খননযন্ত্রের পাশাপাশি গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ৯ফুট প্রস্থের রাস্তাটি নির্মাণ করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে রাস্তাটিকে রঙিন বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছিল ও নতুন রাস্তার উদ্বোধন নিয়ে গ্রামবাসীর আনন্দ-উচ্ছ্বাসেরও কোন কমতি ছিল না। এ ব্যাপারে পরমানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলফাজ উদ্দিন বলেন,রাস্তার অভাবে এলাকার শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এক সময় পরমানন্দপুর ও ষাটবাড়িয়া গ্রামের মানুষেরা ক্ষেতের (জমি) আইল দিয়ে চলাফেরা করতেন। এতে তাদের অনেক ভোগান্তি হতো। যার কারণে নতুন রাস্তা নির্মাণ গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। রাস্তাটি প্রায় ৯ ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জমিদাতাসহ অনেকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সফলভাবে এ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। মূল উদ্যোক্তা হাজি সুজন মাহমুদ, ইসহাক মিয়া, আবুল কাশেম, আবুল কালাম,আলমগীর মিয়া ও আলফাজ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসী বছরের পর বছর চলাচলের অসুবিধায় ছিলেন। আমরা সকলে মিলে নিজের জায়গা দিয়ে সম্মিলিত উদ্যোগে ও সেচ্ছাশ্রমের রাস্তাটি নির্মাণ করতে পেরে খুবই আনন্দিত। এলাকায় মানুষের চলাচলের পথ সুগম হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে দ্রুত সময়ে যে কোন জায়গায় যাতায়াত করতে পারবে। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাউছার হোসেন বলেন, ‘গ্রামবাসী রাস্তাটি তৈরী করে একটা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আমার ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে রাস্তাটির উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এ বিষয়ে সরাইলের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের ডুবোরাস্তা করার পরিকল্পনা তাঁদেরও রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতার পর থেকে বহু জনপ্রতিনিধি রাস্তাটি তৈরীর প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অবশেষে নিজেদের জমি, অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রস্থের রাস্তা বানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন সরাইলের পরমানন্দপুর গ্রামবাসী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে