জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ম দফা নির্বাচনে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলায় আজ ৫’ই জানুয়ারী-২০২২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। তবে দল ও প্রতীক নয়, প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, সততা ও প্রয়োজনে যাঁকে কাছে পাবেন তাঁকেই ভোট দেবেন ভোটাররা।

আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা, আড়াইসিধা, লালপুর,শরীফপুর,তারুয়া,তালশহর,আশুগঞ্জ সদর ও দূর্গাপুর ইউনিয়নের ভোটারদের সঙ্গে সোমবার কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,আশুগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৭ জন, ইউপি সদস্য পদে ২৫৯ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। চরচারতলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাকিমের(২৫) সাথে ও আঈাইসিধা গ্রামের আবদুল গফুরের (৫০)সঙ্গে দেখা হয় আশুগঞ্জ বাজারে, কেমন প্রার্থীকে ভোট দেবেন? জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘দলীয় প্রতীক দেইখা না, প্রার্থী দেইখাই ভোট দিমু।’
আড়াইসিধা এলাকার শাহজাহান আলী বলেন, ‘প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে ভোট দিব।’

দূর্গাপুর গ্রামের রিকশাভ্যানচালক বাবুল হোসেন বলেন, ‘বিপদ-আপদে যারে কাছে পাই, সেই প্রার্থীরেই ভোট দিমু।’ একই গ্রামের ফজলুর রহমান বলেন, ‘অন্যান্য বারের মতো এবারও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। আশা করেছিলাম দলগুলো জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী দেবে। কিন্তু তা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। দলীয় প্রার্থী বিবেচনায় ভোট দেব না। সৎ, যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে যিনি অবদান রাখতে পারবেন তেমন প্রার্থীকেই ভোট দিব।’ তালশহর গ্রামের গৃহবধূ জেসমিন আকতার (৩৫) বলেন, ‘এবারের নির্বাচন দলীয়ভাবে হলেও ভোট দেব প্রার্থী দেখে। কারও কথায় ভোট দেব না।’ একই গ্রামের কৃষক জাহিদুর রহমান রহমান (৫৫) বলেন, ‘যাঁরা সুখ-দুঃখে পাশে থাকে, তেমন প্রার্থীকে দেখে ভোট দেব।’

আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ মোছা মিয়া বলেন, ‘এবার ভোটাররা দল নয়, যোগ্য প্রার্থী দেখেই ভোট দিবে।’উপজেলার চরচারতলা গ্রামের জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এবার প্রথম ভোটার হইছি। ভোট দিমু দেইখা-শুইনা।’ একই এলাকার সামসু মিয়া (৬০) বলেন, ‘মার্কা দেইখা না, ভোট দিমু লোক দেইখা।’এলজিইডির সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত রহিমা খাতুন বলেন, ‘গরিব মানুষের সঙ্গে যাঁরা আছে, তাঁদেরই ভোট দিমু।’ আড়াইসিধা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সেলিম মিয়া বলেন, ‘দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। । আশা করি, মানুষ দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থী হিসেবে আমাকেই নির্বাচিত করবে।’আড়াইসিধা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী আবু সায়েম মিঠু বলেন, ‘দল মনোনয়ন দিতে ভুল করেছে। জনগণ আমার সঙ্গেই আছে।’

দূর্গাপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের ( বিদ্রোহী) প্রার্থী মোঃ রাসেল মিয়া বলেন, ভোটে কারচুপি না হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়াউল করিম সাজু খাঁন বলেন, ‘এবারের ভোট একটু আলাদা। ভোটারের সিদ্ধান্তের ওপর এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করছে।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরবিন্দ বিশ্বাস (বাপ্পী) বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।আশা করি এবারের আশুগঞ্জ উপজেলার ০৮ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কোন রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। তবে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। কোন রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবেনা। এ বিষয়ে উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত আসন ও সাধারণ সদস্যের নিয়ে আলোচনা সভা করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ আনসার মোতায়েন ছাড়াও পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি’র স্ট্রাইকিং টিম এবং প্রতি ইউনিয়নে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়োজিত থাকবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে