শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।
রোববার সকাল ১০টায় একযোগে সারা দেশের আটটি সাধারণ এবং মাদ্রাসা, কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষা বোর্ডে এই পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা আবশ্যিক প্রথম পত্র বিষয়ের পরীক্ষা। দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ হবে।
এতে দুই হাজার ৪৫২টি কেন্দ্রে আট হাজার ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। ২০০৫ সালে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার ৬২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এছাড়া গত এক দশকে উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হারও কমেছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ মানবকণ্ঠকে বলেন, শিক্ষার্থী সংখ্যা যেমন বেড়েছে; ঝরে পড়ার হারও কমেছে। ২০০৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় চার লাখ ১২ হাজার ২৪ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এক দশকে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। তিনি বলেন প্রাথমিক, মাধ্যমিকের মতো উচ্চ মাধ্যমিকেও শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমেছে। পাঁচ বছর আগেও ঝরে পড়ার হার ছিল ২৫ শতাংশ সেই হার এখন ১৫ শতাংশ।
তবে এখনো বিপুল শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক থেকে ছিটকে পড়া উদ্বেগজনক বলে মনে করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, এই হার আরো কমে আসার কথা ছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়া হার কমানো সম্ভব হলেও উচ্চ মাধ্যমিকে এখনো তা আশানুরূপ নয়। এ স্তরে মেয়েরা সংখ্যায় বেশি ঝরে পড়ছে, যা উদ্বিগ্নের কথা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বছর বাংলা প্রথমপত্র, রসায়ন, পৌরনীতি, ব্যবসায়নীতি ও প্রয়োগ, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থাপনা, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ এবং কম্পিউটার শিক্ষাসহ ১৯টি বিষয়ের ৩৬টি পত্রে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে। এইচএসসিতে ২০১২ সালে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে হয়। গত বছর ১৩টি বিষয়ের ২৫টি পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে হয়েছিল। সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নে ৬০ নম্বর এবং বহুনির্বাচনী (অবজেকটিভ) প্রশ্নে ৪০ নম্বর থাকবে। এসএসসির মতো এইচএসসিতেও এবার প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) অংশের পরীক্ষা হবে।
এবারো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন। এ ধরনের পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিস্টিক এবং ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত) পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেয়া হবে। এ ধরনের শিক্ষার্থীরা অভিভাবক, শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।



























