কে এম মিঠু, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে লাবনী আক্তার নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী ছেলে মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন তার নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের নঠুরচর পশ্চিম পাড়া গ্রামে। লাবনী আক্তার (১৫) ওই গ্রামের মো. লাভলু মিয়ার মেয়ে। গত শুক্রবার (৮ অক্টোবর) ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়া লাবনী আক্তারকে একনজর দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষের ভিড় জমছে তাদের বাড়িতে। লাবনীর বাবা লাভলু মিয়া জানান, মেয়ে লাবনী আক্তার এবছর উপজেলার হাতেম আলী বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
কিছুদিন ধরেই তার মেয়ের চলাফেরায়, কথাবার্তা ও অঙ্গভঙ্গিমায় কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনি। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী পারভীন আক্তারের কাছেই প্রথম সে লাবনীর শারীরিক অঙ্গ পরিবর্তন হওয়ার গোপন বিষয়গুলো জানতে পারেন। মানুষের মুখে মুখে বিষয়টি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে জানাজানি হয়ে যায়। এরপর থেকেই দিনরাত হাজারো মানুষ ভীর করছে লাবনীকে দেখার জন্য। বর্তমানে মেয়েটির শারীরিক গঠন, চলাফেরার ভঙ্গিমা, পোষাকের ব্যবহার অনেকটা পুরুষ মানুষের মতোন। এছাড়া তার চেহারা এবং কণ্ঠস্বরেও এসেছে পরিবর্তন। তিনি আরও জানান, লাবনীর বাবা ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়ার পর তার নাম রেখেছি মো. আবদুল্লাহ। ছেলেতে রূপান্তরিত কিশোরী লাবনী আক্তার জানায়, পাঁচছয় মাস আগে হঠাৎ একদিন তার শারীরের গঠন পরিবর্তন হয়ে, পুরুষের মতো শরীরির গঠন হওয়ার শুরু খেয়াল করে। কিন্তু লোক লজ্জার ভয়ে বিষয়টি তখন সে গোপন রাখে। লাবনী মনস্থির করেছিল এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঘটনাটি সে প্রকাশ করবে। লাবনীর মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘গত চারপাঁচ মাস আগে একই উপজেলার মাকু্ল্লা গ্রামে লাবনীর বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু এ বিয়েতে লাবনী ঘোর অসম্মতি জানায়। বিয়ে নিয়ে কোন আলোচনা শুনলেই মেয়েটি প্রচন্ড কান্নাকাটি করে। নাওয়াখাওয়া বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে লাবনীর বড় চাচী ও আমাকে তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুরুষের অঙ্গে রূপান্তরিত হওয়ার ঘটনা খুলে বলে। প্রথমে বিষয়টি আমরা বিশ্বাস করিনি। পরে গোপনে মেয়েটির শরীরের বেশকিছু অঙ্গ পরিবর্তন হয়ে পুরুষের ন্যায় রূপান্তরিত হয়ে যাওয়া দেখে বিশ্বাস করি।’ তিনি আরোও বলেন, ‘আগে তাদের সংসারে দুইটি মেয়ে ছিল। মহান আল্লাহতায়ালা এখন আমার এক মেয়েকে ছেলে বানিয়ে দিয়েছেন। ১ ছেলে ও ১ মেয়ে পেয়ে আমরা অনেক খুশি।’ মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হালিমুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘প্রথমে আমি ঘটনাটি বিশ্বাস করেননি।
পরে সরজমিন ঐ বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই।ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সরকার কর্তৃক সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’ এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিম আল রাজী জানান, আমাদের দেশে এমন ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটে থাকে। এটা সাধারণত হরমোন পরিবর্তন সংক্রান্ত কারণে ঘটে থাকে। ওই কিশোরীকে পরীক্ষা নিরীক্ষার করার জন্য তার পরিবারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।
টাঙ্গাইল নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ



























