জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা।। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খামারে চলছে গরু মোটাতাজাকরণ। খৈল, ভূষি, ঘাস, খড়, বন, লালিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে। করোনার প্রভাবে গতবছর তাদের ব্যবসা ভালো যায়নি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবারও তারা খামার গুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক কোরবানির পশু রেখেছেন।তবে আকস্মিকভাবে লকডাউন দেয়ায় তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। গরুর হাট না বসলে অনলাইনে বিক্রি করে লোকসান গুনতে হবে বলে মনে করছেন খামারীরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,এবছর চাহিদার তুলনায় কোরবানি যোগ্য অতিরিক্ত পশু মজুদ রয়েছে । আশুগঞ্জ উপজেলার তালিকাভুক্ত ৫ শতাধিক খামার ছাড়াও অনেকেই পারিবারিকভাবেও কোরবানির পশু পালন করছেন। প্রতিটি খামারের শ্রমিকরা পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত। কেউ গরুকে গোসল করাচ্ছেন, কেউ আবার খাওয়াচ্ছেন, কেউ বা পরিচ্ছন্ন করছেন।

উপজেলার তালশহর গ্রামের সোনালী এগ্রোফার্মে ৩৫ টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় জাতের দেশাল,শাহিওয়াল,ব্রামা,ইন্ডিয়ান ও দেশীয় বলদসহ বিভিন্ন জাতের বড় বড় দেশীও গরু। যার এক-একটি গরুর মূল্য এক লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ২লাখ টাকার অধিক। এসব খামারে কোন ধরনের রাসায়নিক পদ্ধতি ছাড়াই শুধুমাত্র দেশীয় প্রদ্ধতিতে খৈল,কুড়া,ভূষি.খড়,কাচাঁ ঘাস,ভুট্টার খাওনোর মাধ্যমে যত্ন সহকারে কোরবানির গরু লালন-পালন করে আসছে ।

আশুগঞ্জ উপজেলা গরুর খামার মালিক সমিতির সভাপতি মো: সেলিম মিয়া জানান এই উপজেলায় ৫ শতাধিক খামারে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গরু কোরবানীর হাটে বিত্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। লকডাউনের কারণে গরু বিক্রি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। গরুর হাট না হলে অনলাইনে গরু বিক্রি করে খামারীরা লাভবান হতে পারবে না। এইচ এম এগ্রোফার্মের পরিচালক শেখ মো: দাউদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমার খামারে গরুর পরিচর্যা করা হচ্ছে। মোটাতাজা করতে কোনো প্রকার ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তবে এবার বাজারজাত নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছি। লকডাউনে গরুর হাট না বসলে আর্থিক সংকটে পড়ে যাব।সোনার বাংলা এগ্রো ফার্মের মালিক মো: সাচ্চু মিয়া বলেন, গতবারও করোনার কারণে আমাদের ব্যবসা ভালো যায়নি। এবারও লকডাউন থাকায় কোরবানির পশুর ন্যায্য মূল্য পাব কিনা, শঙ্কায় আছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: ছাইফুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে পশু কেনাবেচার জন্য ফেইসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। এতে খামারিদের যাবতীয় পশুর তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। অনলাইনে পছন্দের পর ক্রেতারা ইচ্ছা করলে খামারে এসে দেখে শুনে তার পছন্দের কোরবানির পশুটি কিনতে পারবেন। এছাড়া কোরবানির পশু নিয়ে খামারিদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই বলেও তিনি জানান।শেষ পর্যন্ত করোনার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে হাট বসার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে