আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ প্রতিনিধি।।
আসন্ন কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে ফিজিয়ান জাতের ষাড় গরু তুফান। ১১শত কেজি ওজনের ফিজিয়ান জাতের এই তুফানের দাম নির্ধারন করা হয়েছে ৮লাখ টাকা। বর্তমানে সবারই মন কাড়ছে এই তুফান।

সান্তাহার শহরের ফুলজান এগ্রো ফার্মে এই তুফান ছাড়াও ব্রাহমা, সিন্ধু, শাহীওয়াল জাতের আরো ৩৩টি বিভিন্ন জাতের মনকাড়া ষাড় প্রস্তুত রয়েছে। এই ফার্ম থেকে তুফানসহ অন্যান্য ষাড় কিনলে তা ক্রেতার কাছে বিনামূল্যে পৌছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফার্ম কর্তৃপক্ষ। এই ফর্মের বিশেষত্ব হচ্ছে এই যে হালাল পদ্ধতিতে এখানে গরু প্রস্তুত করা হয়। যার কারণে এই ফর্মের গরুর মাংসের স্বাদও অনেকটা আলাদা।

আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে জেলার খামারীরা ৩লাখ ৮০হাজার ৪১৫টি কোরবানির পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। গত বছর কোরবানিতে এর সংখ্যা ছিল ২লাখ ৫৭ হাজার ৯৮২টি। সেই হিসেবে এবার প্রায় ১লাখ ২২হাজার ৪৩৩টি পশু বেশি প্রস্তুত করেছে খামারীরা। কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চলমান লকডাউনের কারণে পশুর হাটগুলো সচল না থাকায় হতাশায় পড়েছেন জেলার খামারীরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার ২৮টি কোরবানীর হাট চালানোর ঘোষনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই ঘোষনায় অনেকটাই খুশি জেলার খামারীরা। কথা হয় ফুলজান এগ্রো ফার্মে গরু দেখতে আসা আলহাজ্ব শহীদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান করোনা ভাইরাসের এই মহামারিতে হাটে গিয়ে গরু কেনা অনেকটাই
ঝুঁকিপূর্ন। তাই আমি গত বছরের মতো এই বছরেও এই ফার্ম থেকে গরু নিয়ে কোরবানী দেওয়ার নিয়ত করেছি। তাই ফার্মে গরু দেখতে এসেছি। এই ফার্মে হালাল পদ্ধতিতে নিজস্ব জমিতে চাষ করা ঘাসসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে গরুগুলো বড় করা হয় বলে মাংসের স্বাদও অন্য রকম। গরুগুলো দেখতেও অনেক সুন্দর।

ফুলজান এগ্রো ফার্মের পরিচালক ফুল মোহাম্মদ সবুজ বলেন, আমি অনেক বছর যাবত এই ফার্ম পরিচালনা করে আসছি। শুরু থেকেই সম্পন্ন হালাল পদ্ধতিতে ও প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে গরু বড় করে আসছি। বিশেষ করে আমার ফার্মের গরুতে কোন কীটনাশক কিংবা রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয় না। এই গরুগুলোর সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়ার জন্য প্রাণী সম্পদ বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া আছে। ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীরা কয়েকটি গরু কিনেছেন। আশা রাখি ঈদের আগে সবগুলো গরুই বিক্রি হয়ে যাবে।

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: হেলাল উদ্দিন খাঁন বলেন, নওগাঁ জেলাসহ দেশের খামারীদেও গবাদি পশুগুলো বিক্রি করার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট চালানোর অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও যে সব খামারীরা গরু ঢাকা’সহ দেশের অন্যান্য স্থানে নিয়ে যেতে চান তাদেও জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে খামারীরা লোকসানের মুখে পড়বেন না।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে