ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর ইবিকে বদলে দেওয়ার রুপকার, ১৬ হাজার শিক্ষাথীর প্রাণ, ইবিকে আন্তর্জাতিকীকরণ এর জনক, একজন অত্যাধিক সৎ যোগ্য ও নির্ভিক মানুষ, যার নাম ড. হারুন-উর-রশীদ আসকারী, এই মানুষটির উপর রাতের অন্ধকারে গাড়ি থামিয়ে গুপ্ত হামলা চালানো হয়। গতকাল রাত তিনটার দিকে ঢাকা থেকে অফিসের কাজ শেষ করে ক্যাম্পসে ফেরার পথে ঝিনাইদহের শৈলকূপার গাড়াগঞ্জের বড়দাহ নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
উপাচার্যের ভাষ্য, গতকাল সন্ধ্যার দিকে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে তিনি রওনা দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে একান্ত সহকারী (পিএস) রেজাউল করিম ছিলেন। মাগুরা হয়ে ঝিনাইদহ শহরে তিনি রেজাউলকে তাঁর বাসায় নামিয়ে দেন। এরপর চালক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে রওনা হন। রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে বরদা এলাকায় মহাসড়কের ওপর তাঁরা গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকতে দেখেন। গাড়ির গতি কমালে কয়েকজন যুবক দ্রুত কাছে এসে গাড়ির জানালার কাচে আঘাত করতে থাকে। কাচ ভেঙে যায়। চালকসহ তিনি দ্রুত গাড়ি থেকে বের হন। তিনজন যুবককে (শার্ট প্যান্ট পরা, মাথা ও গলায় মাফলার জড়ানো) রামদা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। আশপাশে আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিল। তাঁদের দেখে উপাচার্য দ্রুত জঙ্গলের মধ্যে দৌড় দেন। যুবকেরাও দৌড়ে জঙ্গল থেকে উপাচার্যকে ধরে আবার রাস্তায় নিয়ে আসেন। এরপর গালাগালি করে টাকা চান।

মানিব্যাগ নিয়ে নেন। মুঠোফোনও তাঁরা নিয়ে গেছেন। তবে কাছে থাকা ল্যাপটপ নেননি। ঘটনার বর্ননাকালে তিনি আরোও বলেন-গতকাল রাত ৩:৩০-৪:০০ টা পযন্ত আমি আমার জীবনের আশা ত্যাগ করেছিলাম এবং মৃত্যু কে এত কাছ থেকে কখনো দেখিনি। পরম করুণাময় আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে গেছি। চালক ফরহাদ হোসেন বলেন, রাস্তায় গাছের গুঁড়িটি পার হতে প্রাণপন চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তা অসম্ভব হওয়ায় স্যারকে পালাতে বলেছি। স্যার পালানোর পর আমি অপর দিকে পালিয়ে যাই এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে ফোন করি। পরে পুলিশ আসলে আমি গাড়ির কাছে আসতে সক্ষম হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনা জানার পর কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের হেফাজতে উপাচার্য স্যারকে ক্যাম্পাসের বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। ঘটনা তদন্ত করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, বিষয়টি জানারপর ঘটনাস্থলে গিয়ে স্যারকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসে বাসভবনে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। . শৈলকুপা থানার ওসি বলেন ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ডাকাতি মনে হচ্ছে। আমরা তদন্তে নেমেছি। তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে’ এঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইবি প্রেসক্লাব, ছাত্রলীগ, শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শাপলা ফেরাম, জিয়া পরিষদ ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
ন্যাশনাল ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ



























