
আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ প্রতিনিধি।। এপি তালুকদার এক দুঃসাহসী নারীর নাম। যিনি কিনা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বন্ধ থাকায় নাড়ীর টানে ঢাকা থেকে সান্তাহার পর্যন্ত ২৫৫ কিঃমি রাস্তা সাইকেল চালিয়ে ছুটে এসেছেন, ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে নিজ পরিবারের কাছে। এই দুঃসাহসী নারী এপি তালুকদারকে মঙ্গলবার(১৮’ই মে) রাতে একুশে পরিষদ নওগাঁ সংবর্ধিত করে। একুশে পরিষদ নওগাঁর স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাড. ডি. এম. আব্দুল বারী বলেন, একুশে পরিষদ দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন গুনি ব্যক্তিকে সংবর্ধিত করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ দুঃসাহসী নারী এপি তালুকদারকে সংবর্ধিত করা হয়েছে।
এপি তালুকদার বিডি টাইম্স নিউজকে বলেন, বর্তমান সময়ে ছেল মেয়ের কোন ভেদা ভেদ নেই। কে কি বল্লে তাতে আমি কান দেই না। আমি ২০১৭’সালে সাইকেল কিনি। এটা ঢাকা শহরে আমার প্রধান বাহন। সাইকেল নিয়ে বাড়ি আসার ইচ্ছা অনেক দিন থেকেই ছিল। কিন্তু কখনও আসা হয়নি। এবার লক ডাউনে দূর পাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় সিন্ধান্ত নেই সাইকেল নিয়ে বাড়ি যাবো। ৩’রা মে আমি সিদ্ধান্ত নিই আমি রওনা দিবো,
প্রথমে ভাবছিলাম পথে থেমে থেমে যাব, তাই টাঙ্গাইলে থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে আরেকজন সঙ্গী পেয়ে গেলাম যিনি রাতে আমার সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যাবেন। তখন পরিকল্পনায় বদলে ফেলি। তিনি আরো বলেন,লকডাউন থাকায় রাস্তায় গাড়ি ছিল না বললেই চলে। রাস্তায় ঝড় বৃষ্টি পেয়েছি, পরিস্থিতি ভাল যখন হয়েছে তখন আবার রওনা দিয়েছি। পথে পথে বন্ধুরা নানা জায়গায় অপেক্ষায় ছিলেন তাদের দেখা পেয়েছি। সে এক ভিন্নরকম ভালোলাগা। ৩ তারিখে বিকেল ৪ টায় ঢাকার বাসা থেকে রওনা দিয়ে সেদিন সারারাত সাইকেল চালিয়ে পরের দিন সিরাজগঞ্জ পৌঁছানোর পরে সঙ্গী রাসেল বিদায় নেয়। এর পরের পথটুকু আমি একাই গেছি। বগুড়ায় এক বন্ধুর বাসায় রাতটা কাটিয়ে ভোররাতে ৫ তারিখে সেহরির খেয়ে রওনা দেই সান্তাহারের উদ্দেশ্যে সকাল ১০’টায় নিজ বাড়িতে পৌঁছাই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাড. ডি. এম. আব্দুল বারী,সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, প্রতাপ চন্দ্র সরকার, সাধারণ সম্পাদক এম এম রাসেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন লিটন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রউফ পাভেল। তাঁকে সংবর্ধিত করার জন্য একুশে পরিষদ নওগাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

নওগাঁ নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























