কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে করা মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার(১৪’ই মার্চ) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৫’ই এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। একইসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা, মেডিসিন এবং অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধানদের সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের আদেশ দেয়া হয়েছে।

কমিটিকে ২৪’কর্মঘণ্টার মধ্যে কিশোরের নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে বুধবার (১০’ই মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে কিশোর মামলার আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান। এবিষয়ে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর বলেন, ‘আমাকে আটকের পর নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে মামলা নেয়ার আবেদন করেছি।’

কিশোরের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আটকের পর কিশোরকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। আমরা আজ আদালতে হেফাজতে নির্যাতন আইনে মামলা নিতে আবেদন করেছি। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। এ বিষয় পরে আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত। এর আগে গত ৩ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কার্টুনিস্ট কিশোরের ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ও কার্টুনিস্ট কিশোরের অসুস্থতার কথা জানিয়ে তার জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

জামিনের পর আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদ। ২৫ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা যান লেখক মুশতাক আহমেদ। ১ মার্চ এই আবেদন শুনানির জন্য আদালতে ওঠে। সেদিন মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়। আদালত মুশতাকের বিষয়ে লিখিত হলফনামা দিতে বলেন এবং কিশোরের জামিন শুনানি করেন। শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে লেখক মুশতাক আহমেদ, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়া ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তখন ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। সে মামলায় দুজন জামিনে মুক্তি পেলেও মুশতাক ও কিশোরের জামিন আবেদন ছয়বার নাকচ হয়।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে