নভেল করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট জালিয়াতির বহুল আলোচিত মামলায় গ্রেফতার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর আরও একটি প্রতারণার তথ্য পেয়ে তার সত্যতাও পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ডা. সাবরিনা মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়েছেন বলে জানতে পারে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। দুটি এনআইডিতে স্বামীর নামের জায়গায় পৃথক ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। দুটি এনআইডিতেই বয়সের পার্থক্য দেখানো হয়েছে।
তবে এরইমধ্যে তার দুটি এনআইডিই অকার্যকর (ব্লক) করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে ভুল তথ্য দিয়ে দুবার ভোটার হওয়া ও দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে জাতীয় নিবন্ধন অনুবিভাগকেও নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
সাবরিনার দুটি এনআইডি ব্লক ও মামলা দায়েরের নির্দেশনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গুলশান থানা নির্বাচন কর্মকর্তাকেও সাবরিনার বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায়, কার সুপারিশে তিনি দ্বিতীয়বার ভোটার হয়েছেন এবং এ ঘটনায় আমাদের কেউ কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে সহায়তা করেছে কি-না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
জানা গেছে, ডা, সাবরিনা নিজের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে মোহাম্মদপুর ও গুলশান নির্বাচন থানার অন্তর্গত এলাকায় দুইবার ভোটার হয়েছেন। দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রেই তার নিজের, বাবা-মায়ের ও স্বামীর নাম ভিন্ন রয়েছে। আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য বা ঘোষণা দিয়ে ভোটার হলে ৬ মাস কারাদণ্ড, অনধিক ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।
জানা গেছে, ডা. সাবরিনা ২০১৬ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় দ্বিতীয়বার ভোটার হন। একটিতে ভোটার হন সাবরিনা শারমিন হোসেন নাম দিয়ে। জন্ম তারিখ ১৯৭৮ সালের ২ ডিসেম্বর। অন্যটিতে ১৯৮৩ সালের ২ ডিসেম্বর। দুটি আইডিতে বয়সের ফারাক ৫ বছর। একটিতে স্বামীর নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন আর. এইচ. হক। আর দ্বিতীয়টিতে স্বামীর নাম লেখা হয়েছে আরিফুল চৌধুরী। একটিতে বাবার নাম সৈয়দ মুশাররফ হোসেন ও মায়ের নাম কিশোয়ার জেসমীন, অপরটিতে মা-বাবার নাম পরিবর্তন করে সৈয়দ মুশাররফ হোসেন ও জেসমিন হুসেন দিয়েছেন।
ভুয়া করোনার রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গত ৫ আগস্ট জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিএমপি)। গত ২০ আগস্ট সাবরিনা ও আরিফসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার বাদী কামাল হোসেনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য নেয়ার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
সাবরিনা-আরিফ ছাড়াও এ মামলার অপর ৬ আসামি হলেন- শফিকুল ইসলাম রোমিও, জেবুন্নেসা, আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী ও বিপ্লব দাস।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























