রিফাত ইসলাম, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি || জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জে অবস্থিত তারই নামে নামাঙ্কিত, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়” এর নামে দ্বিতীয় আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন প্রস্তাবনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ১৬’ই জুলাই পিরোজপুরে বশেমুরবিপ্রবি নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত চেয়ে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সৈয়দ আলি রেজা এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। পরে বিজ্ঞপ্তিটির ছবি নানাভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর এই থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। তারা এই সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নানারূপ সমালোচনা সহ যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণে আহবান করছে।
এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বশেমুরবিপ্রবির রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অপু বলেন, “একই নামে দুই বিশ্ববিদ্যালয় সত্যি হতাশ জনক। এর জন্য ভবিষ্যতে আমরা আমাদের ছাত্রত্বসহ সনদ পরিচয় সংকটে পরতে হবে। এছাড়াও এমন কাজের অযৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপের আশা করেন।” দুইটি একই নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, “পাশাপাশি দুইটি জেলায় একই নামে দুইটি একই ধরণের (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতটা যুক্তিযুক্ত? দুইটি একই নামের হওয়ায় এক সময় চেনার সুবিধার্তে সবাই বলতে শুরু করবে পিরোজপুর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ক্ষেত্রে কেউ ই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ নামটি আর বলবে না। কৌশলে বাদ পড়বে জাতির জনকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাম টুকু। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” এদিকে বশেমুরবিপ্রবির গণিত বিভাগের প্রভাষক তরিকুল ইসলাম তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “আর কতো নোংরা রাজনীতি হবে জাতির পিতার জন্মভূমি, গোপালগঞ্জের মাটিতে জাতির পিতার নামে নামাঙ্কিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে।
২০০১ সালে এই বিশ্ববিদ্যাল্যকে বন্ধ করে দিয়েছিল এখন আবার হুবুহু একই নামে ভিন্ন জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। সুবিধাভোগীরা জাতির পিতার নাম ব্যবহার করে অনেক সুবিধা নিয়ে নেন সহজেই। একই নামে হুবুহু দুটি বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে সম্ভব? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামটি বাদ পড়ে লোক মুখে ছড়িয়ে পড়বে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এতে জাতির পিতার নামেরই সম্মানহানি হবে। জাতির পিতার নাম নিয়ে নোংরা রাজনীতি কোন মতেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” ২০০১ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) আইন পাস হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী, ৯ টি অনুষদের ৩৪ টি বিভাগ নিয়ে আসন সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের চতুর্থ বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানে অবস্থান করছে।
রিফাত ইসলাম, বশেমুরবিপ্রবি
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























