কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫৩ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের কাজ ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে পাইয়ে দিতে ইবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীকে দফায় দফায় হুমকি দেয়া হওয়ার বিষয়ে দেশের সকল গনমাধ্যমে প্রতাশিত হলেও থেমে নেই ঐ দুষ্ট চক্রটি। যার ফল শ্র“তিতে ২০ শে মার্চ শুক্রবার ছুটির দিনে প্রধান প্রকৌশলীর অফিসের তালা ভেঙ্গে ফাইল তছনছ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধান প্রকৌশলীকে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আলিমুজ্জামান টুটুল ইবি থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
চলমান অন্য মেগা প্রকল্পের টেন্ডার পছন্দের লোককে পাইয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও প্রধান প্রকৌশলীর ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। নানামুখী চাপে ক্লান্ত ইবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফেসবুকে সোমবার রাতে স্ট্যাস্টাস দিয়েছেন। এরপরই শুরু হয় তোলপাড়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে জোট বেঁধে ইবির কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা এই চাপ সৃষ্টি করছেন বলে জানান প্রকৌশলী টুটুল। ইবির প্রকৌশল অফিসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মেগা প্রকল্পের চলমান কাজকে ঘিরে এর আগেও টুটুলের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার কাছ থেকে কয়েক দফা টাকাও নেয় প্রভাবশালী ওই চক্রটি। এর মধ্যে ইবি ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটির বিতর্কিত দুই নেতা পলাশ ও রাকিবও রয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পাসের অবকাঠামো উন্নয়নে ৫৩৭ কোটি টাকার মেঘা প্রকল্পের কাজ ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সে সব তথ্য প্রমান সহ বিষয়টি প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানোর কথা ভাবছেন তিনি। গত ১৬ই মার্চ সোমবার রাত ৯.৩৮ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান একটি স্ট্যাটাস দেন মর্মে যে, আমি পদত্যাগ করব। স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেছেন ইবিতে আর চাকুরী করা হলো না আমার। রিজাইন করবো ইনশাআল্লাহ এই স্ট্যাটাস এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ব্লাকমেইল করার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র। এই চক্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত শিক্ষক সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানসহ উর্ধতন কর্মকর্তারাও জড়িত থাকার কথাও তিনি প্রতিবেদককে বলেন। তিনি এটাও বলেন, সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য।
তিনি আরো বলেন হুমকি দেওয়ার ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে সকল কিছু খুলে বলবো। তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করে পদত্যাগ করবেন বলে জানান। কিন্তু তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে ক্যাম্পাসের অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমানে ৫৩৭ কোটি টাকার মেঘা প্রকল্প চলছে। ৩০ শে মার্চ ও ৬ এপ্রিল ৫৩ কোটি টাকা করে ১০৬ কোটি টাকার দুটি দরপত্র খোলা হবে। এই দরপত্রের মধ্যে একটি দরপত্র ঢাকার একটি সংগঠনকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আলিমুজ্জামান টুটুলকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করে আসছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোঃ হারুন অর রশিদ আসকারী প্রতিবেককে বলেন প্রকৌশলী আমাকে বলেছেন যে আমার উপর একটা চাপ চলছে। তাকে বলা হয়েছে চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। চাপের কাছে নতি স্বীকার করে কোন কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে না। আমি যতক্ষণ ভিসি আছি আমার জীবন দিয়ে প্রকৌশলীকে রক্ষা করবো। প্রকৌশলী যদি আমাকে জানান কারা চাপ দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব। তিনি আরো বলেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।
কে এম শাহীন রেজা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























