ইবি প্রতিনিধিঃইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মঙ্গলবার ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়েছে। হামলার অভিযোগ ইবির মেইন গেট বন্ধ করে দিয়ে পদ বঞ্চিত অংশের নেতা-কর্মিরা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,‘ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পশাল ও সাধারন সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার সহযোগিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এ সময় দলীয় টেন্ডে যাওয়ার চেষ্টা করলে পদ বঞ্চিত মিজানুর রহমান লালন-ফয়সাল আরাফাত গ্র“পের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মিরা তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় দুইগ্রপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সাধারন সম্পাদক রাকিবসহ দুই পক্ষের কমপক্ষে ১৫জন নেতা-কর্মি আহত হয়। এ সময় ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় সভাপতি-সম্পাদকসহ তার সমর্থকরা। পরে হামলার অভিযোগ এনে লালন-আরাফাত গ্র“পের কর্মিরা ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রায় ঘন্টাব্যাপী অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা। হামলার জন্য পলাশ ও রাকিবকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেন।
বিক্ষুব্ধ অংশের নেতা মিজানুর রহমান লালন বলেন,‘ পলাশ ও রাকিব বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মিদের ওপর হামলা করে। তারা ককটেল হামলা করলে আমাদের গ্র“পের কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।তবে হামলার জন্য পলাশ ও রাবিক প্রতিপক্ষের কর্মিদের ওপর দোষ চাপান। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য পলাশকে সভাপতি ও রাকিবকে সাধারন সম্পাদক করে গত ৬ মাস আগে ইবি ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। আর্থিক লেনদেন সহ নানা কারণে কমিটি বিতর্কিত হয়ে যায়। এরপর বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মিদের বারবার বাঁধার কারনে তারা দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস ছাড়া। নতুন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করায় এ সংঘর্ষ হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন,‘ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আনিচুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তিনিসহ অনেকেই আহত হয়েছে। এখন শান্ত আছে ক্যাম্পাস।এদিকে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মারামারি ও বিশৃংখলা করার অভিযোগে ইবি ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাকিবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিতে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরিনকে আহ্বায়ক করে ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামালকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
প্রিতম মজুমদার
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ























