চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার আকুন্দবাড়ীয়া এলাকার মাথাভাঙ্গা নাদী থেকে মোমিন নামে এক কিশোরের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বন্ধুর প্রেমিকার সাথে প্রেম করার অীভযোগে ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয় মোমিনকে। হত্যাকারী বন্ধু সাফায়েত(১৫) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ (৪ মে) শুক্রকার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আকুন্দবাড়ীয়া গাংপাড়া এলাকার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে নিহত মোমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মোমিন (১৫) আলুকদিয়া প্রেম বাজার এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।পুলিশ সুত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকুন্দবাড়ীয়া গ্রামের গাংপাড়ায় আজ শুক্রবার সকালে রক্তমাখা মাটি ও স্যান্ডেল দেখে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তা মাখা মাটি ও স্যান্ডেল উদ্ধার করে, মূল ঘটনার অনুসন্ধানে নামে। বিকালের দিকে ওই এলাকা থেকে খবর আশে মোমিন নামে এক কিশোরকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পরে পুলিশ পূনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে খোজ খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে সাফায়েত নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোমিনকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করাসহ নিহতের লাশ মাথাভাঙ্গা নদীতে কচুরিপানার নিচে ঢেকে রেখেছে বলে পুলিশের কাছে জানায় ওই হত্যাকারী। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে নিহত মোমিনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহসহ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় হত্যার কাজে ব্যবহৃত ওই ছুরি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

পরে আটক সাফায়েতকে থানা হেফাজতে নিলে আরো জানা যায়, গত দুই বছর বেশি সময় ধরে আলোকদিয়া রোমেলা খাতুন স্কুলের ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো আটক সাফয়েতের। এই প্রেমের বিষয়টি জনতো মোমিন। একপর্যায়ে গত কয়েক মাস ধরে মোমিন সাফায়েতের প্রেমিকাকে ফুসলিয়ে নিজে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। আর এ ঘটনায় তাদের দু’জনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের ফাটল ধরে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার দু’জনের মাঝ কথা কাটাকাটি হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধার পর কৌশলে মোমিনকে আকুন্দবাড়ীয়া গাং পাড়ায় ডাকে সাফায়েত। এসময় সাফায়েত বিড়ি খাওয়ার নাম করে নির্জন স্থানে নিয়ে ছুরি দিয়ে মোমিনের গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে নিহতের লাশ টেনে নিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে কচুরিপানার নিচে ঢেকে রাখে।

এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আবুজিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, প্রেম ঘটিত কারণে মোমিন নামে ওই কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে। রক্তমাখা মটি ও স্যান্ডেল দেখে আকুন্দবাড়ীয়া গ্রামের লোকজন গতকাল সকালে পুলিশকে খবর দেয়। পরে মোমিন নামে এক কিশোর নিখোজ এর বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে মোমিনের বন্ধু সাফায়েতকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জ্ঞিাসাবাদে খুনের ঘটনা স্বীকার করে সে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাথাভাঙ্গা নদীথেকে নিহত মোমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকারী আটক সাফায়েতকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এ ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা।

সোহেল রানা
চুয়াডাঙ্গা নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে