বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) যুগান্তর প্রতিনিধি রাব্বী হাসান সবুজের ওপর হামলার ঘটনার ১০ দিন পর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। গত রোববার (২৫ নভেম্বর) তাজহাট থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয় বলে তাজহাট থানার ওসি রোকনুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন। সাংবাদিক রাব্বী হাসান সবুজ বাদী হয়ে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে এ মামলা দায়ের করেছেন।

এ মামলাটি রেকর্ড করতে থানা পুলিশ গড়িমসি করায় গত রোববার (২৫ নভেম্বর) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল আলীম মাহমুদকে সাংবাদিকরা বিষয়টি অবগত করেন। এরপরে তাজহাট থানা পুলিশ মামলা রেকর্ড করেন। অভিযুক্তরা হলেন, ইতিহাস ও প্রতœতত্ত¡ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী মিঠু ও গোলাম মুর্শিদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মামুন সাকিব, রসায়ন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন সরকারসহ আরো অনেকেই।
মামলার এজাহার ও অভিযোগ পত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া থেকে অনুষ্ঠান দেখে ফেরার সময় কৃষ্ণচূড়া-বিজয় সড়ক রোডের সম্মুখে কিছু বখাটে সাংবাদিক রাব্বী হাসান সবুজের সহপাঠিনীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য ও ইভিটিজিং করে। তার প্রতিবাদ করায় ইভিটিজিংকারীরা সাংবাদিক রাব্বী হাসান সবুজ ও তাঁর সহপাঠিনীর উপর দল বেধে হামলা চালায়। তাদের মধ্যে ইতিহাস ও প্রতœতত্ত¡ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী মিঠু ও গোলাম মুর্শিদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মামুন সাকিব, রসায়ন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন সরকারসহ আরো অনেকেই ছিল। তারা রাব্বীর ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক কিল-ঘুষি-লাথি দিতে থাকে এবং তাঁর সহপাঠিনীকে টানাহেচড়া করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মুহিবুল ইসলাম আমাকে উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই রাব্বীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলায় আমার নাকের তরুণাস্থি প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, যা সারতে দীর্ঘদিন সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
এদিকে গত ১৬ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল রাব্বী হাসান সবুজ। সেদিনের ঘটনার পর থেকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নানান ধরণের কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা লিখে ফেসবুকে স্টাটাস দেয় যার কারণে রাব্বী হাসান সবুজ এবং তাঁর সহপাঠিনীর সম্মানহানি হচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গত ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও রংপুরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন-প্রতিবাদ সমাবেশ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এ ঘটনার পর সাংবাদিক রাব্বী হাসান সবুজ বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, আবাসিক হল ও তার বিভাগ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে লিখিত অভিযোগ দিলেও তারা এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।

নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে