স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় । শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলেও ৩৮তম বছরে এসে মাত্র ২৩ ভাগ আবাসন ব্যবস্থা দিতে সক্ষম হয়েছে ।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৩ টি বিভাগের অধীনে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহন করছে। বর্তমান প্রশাসনের একনিষ্ঠ কর্মদক্ষতা এবং দূরদর্শিতায় ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে আরো ৮ টি নতুন বিভাগ চালু হয়েছে। নতুন বিভাগ চালু হওয়ার কারনে বেড়েছে শিক্ষার্থী ।এই শিক্ষারথীদের পরিবহন ব্যবস্থায় সমন্বয় করতে গিয়ে প্রতি বছর বিশাল অংকের টাকা ব্যয় হচ্ছে প্রশাসনের। বাৎসরিক প্রায় ৯ কোটি টাকা পরিবহন খাতে খরচ করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে রেল সংযোগ স্থাপনই একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বিশিষ্টজনেরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের সাথে কথা বলে বিডি টাইমস নিউজ জানতে পারে, প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন আর বাকী ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলায় অবস্থান করেন। দুই জেলায় অবস্থিত এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহনের জন্য কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ রুটে ৭৫টি গাড়ি ব্যবহৃত হয়। যার মধ্যে ৩৬টি গাড়িই ভাড়া করে চালাতে হচ্ছে বছরের পর বছর। পরিবহন খাতে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করা হলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়া এবং ঝিনাইদহ শহরের দূরত্ব যথাক্রমে ২৪ এবং ২২ কিলোমিটার হওয়ার কারনে শিক্ষার্থীরা বেশ সমস্যায় পড়েন। নিরাপদ রেল পরিবহন ব্যবস্থা দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাই। কুষ্টিয়া রেল সংযোগ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ঝিনাইদহ পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ করা হলে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিবহন সেক্টর আরো উন্নত এবং সময়োপযোগী হত।
বিশ্ববিদ্যালয়টির মাননীয় উপাচার্য ড. রাশিদ আসকারী বিডি টাইমস নিউজকে বলেন, “অবস্থানগত কারনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবহন ব্যবস্থার উপর বহুলাংশে নির্ভর করতে হয়।ভাড়া করা গাড়ির উপর নির্ভরতার কারনে আখাঙ্খিত পরিবহন সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেন ব্যবস্থার মত কুষ্টিয়া-বিশ্ববিদ্যালয়- ঝিনাইদহ একটি রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হলে এই পরিবহন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। ড. আসকারী বলেন, গত ৭ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে রেল সংযোগ স্থাপন করার বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে উত্থাপন করেছিলাম।এটা আমার এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ১৮ হাজার মানুষের প্রানের দাবি।”
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ


























