ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করায় বৃহত্তর ফরিদপুরবাসি অত্যন্ত ভাগ্যবান। তিনি বলেন, কুষ্টিয়াতে আমি জন্মগ্রহণ করায় কুষ্টিয়া আমার প্রিয় জেলা হলেও ফরিদপুরকে আমি অত্যন্ত ভালবাসি। কারণ এ জেলার পবিত্র মাটিতে জন্ম নিয়েছেন এবং চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আমি মনেকরি এ জেলাটি শুধু আমারই প্রিয় নয়, কোটি কোটি মানুষের প্রিয় এবং শ্রদ্ধার জেলা বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা। তিনি বলেন, ফরিদপুর জেলার প্রতি আমার আবেগ, বিশেষ অনুভুতি, আদর্শ, চিন্তা, চেতনার জায়গার সূত্রপাত যে ব্যক্তিকে ঘিরে, সেই মহান ব্যক্তি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধান অতিথি বলেন, আমরা যে জেলায় বসবাস করি, আমাদের সেই মাতৃভূমি যেমন আমাদের কাছে প্রিয়, ঠিক তেমনি এ দেশটিও আমাদের সকলের কাছে অতি প্রিয়। কিন্তু দূর্ভাগ্য যে, যে রাষ্ট্র আমাকে এত ভালবাসে, যে রাষ্ট্র আমাকে মানুষ হওয়ার জন্য অনেক কিছু দেয়, আর আমরা যখন মানুষ হয়ে উঠি ঠিক তখনি বেমালুম ভুলে যায় সেই রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের ভালবাসা, প্রেম, দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ তোমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছো, তোমরা একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে তুলনা করলে দেখতে পাবে তোমাদের সাথে তাদের ব্যয়ের ব্যবধানটা কত বেশি। তোমাদের ব্যয় কম হওয়ার কারণ হচ্ছে তোমরা এদেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় লেখাপড়া করো। অথচ হয়তোবা তোমরাই একদিন বিদেশে গিয়ে দেশের কথা ভুলে যাবে। এ ভুলে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ।

বড় ত্যাগ, বড় সংগ্রামের পরে অর্জিত হয়ে আজকের এই রাষ্ট্র। আজ তোমরা বড় আনন্দের সময় পার করছো যার জলন্ত উদাহরণ পাকিস্তানের নব নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যখন বলে পাকিস্তানীকে সুইডেন বানানো যায়, ঠিক তখনি পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবি এবং জনগণ তাদের প্রধানমন্ত্রীকে বলে পাকিস্তানকে সুইডেন বানানোর দরকার নেই, আমাদের বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র বানিয়ে দাও। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে আমরা কত গর্বের জায়গায় পৌঁছে গেছি। তিনি বলেন, সেই গর্বের জায়গাকে আরও এগিয়ে নিতে তোমরাই পারবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ এবং ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ দেখার যে স্বপ্ন গড়েছেন সেই স্বপ্ন তোমাদেরকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এজন্য তোমাদের মনোবল এবং আদর্শিক শক্তি আরো বৃদ্ধি করতে হবে। এ আয়োজন করায় আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ড. সেলিম তোহা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির আয়োজনে নবীনবরণ, বিদায়ী ও মেধাবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. সেলিম তোহা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তৃতা করেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেন। বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি শিবলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শরীয়াহ্ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রেবা মন্ডল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও ফরিদপুর টাইমস্ ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম জিল্লু, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ড. সাইবুর রহমান মোল্যা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মতিয়ার রহমান মোল্লা ও বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগ।

খালিদ হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মন্ডল। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন, বিদায়ী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদানের মধ্যদিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে