ইসলামী বিশ্ববদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন, ধর্ম যার যার দেশটা সবার। এখানে সকল ধরনের অন্যায়, অবিচার, পাপাচার, দূর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে কল্যান ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা একটি সংবিধান পেয়েছি, যার অন্যতম প্রধান মূলনীতি হচ্ছে অসাম্প্রদায়িকতা। তিনি বলেন, যে কোন গবেষণাই বলিনা কেন, ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করে কোন সামাজিক সুন্দর জীবন হতে পারে না। তাই বাংলাদেশের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় সকল কিছুর উর্ধ্বে থেকে সকলকে সমাজ বির্নিমানে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সহাস্য ধরাধামে আর্বিভাব হয়েছিলেন এবং হাসির মধ্যে দিয়ে ধরাধাম থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। যেকোন মানুষের দিনের শুরুটা যদি হাসির মাধ্যমে হয় তবে এতে করে পরিবার সমাজ ও দেশের অনেক উপকার হবে। রবিবার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমী উদ্যাপন পরিষদের আয়োজনে টি.এস.সি.সি’র বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমী উপলক্ষ্যে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এসব কথা বলেন।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. ধনঞ্জয় কুমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, শ্রীকৃষ্ণ এসেছিলেন সকল ধরনের পাপাচার, অধর্ম, অকল্যান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হিসাবে এবং তৎকালীন বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি বলেন, মানবকল্যান ও ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য তাঁর পথ ছিল কন্টকাকীর্ণ। তিনি সকল প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সকল ধর্মের মর্মবাণী যে এক এবং অভিন্ন এই কথাটি আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে স্বাধীনতার বিপক্ষের শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে এবং বার বার স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে হবে। অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষদের নিয়ে আমাদের দেশ। আমরা যেন কেউ কোন প্রকার বৈষম্যের শিকার না হই সেদিকে সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং আমাদের নিজেদের মধ্যে মানুষের জন্য প্রেম ভালোবাসা ও মায়া মমতার সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা। বক্তব্য রাখেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তপন কুমার রায়। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমীর উপর ধর্মালোচক হিসাবে প্রানবন্ত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রিয় বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের সদস্য ডঃ মিলন কুমার বসু।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমী উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. জাকারিয়া রহমান, প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, প্রফেসর ড. আজগর হোসেন, ড. আলতাফ হোসেন, রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস.এম আব্দুল লতিফ, লিটন বরন শিকদারসহ হিন্দুধর্মাবলম্বী সকল শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। আলোচনাসভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্য,প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তর
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ।। বিডি টাইমস নিউজ


























