রুজমিলা হক, যুক্তরাজ্যঃ দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ হোম অফিস।
২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় নাগরিকত্বধারী ব্রিটিশ নাগরিকরা যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে, যেসব যাত্রী ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা যুক্তরাজ্যে বসবাসের বৈধ প্রমাণ দেখাতে পারবেন না, তাদের বিমান, ফেরি বা ট্রেনে ভ্রমণের অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়। প্রায় ৩০ লাখ আবেদন জমা পড়ে যাতে বিলটি সংসদে পাস না করা হয়। এ উদ্যোগে সমর্থন জানান লিবারেল ডেমোক্র্যাটস এবং সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস। তবে লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার এসব আবেদন উপেক্ষা করে তাদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং একটি আধুনিক ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, ভিসাধারী নাগরিকদের মতোই এখন কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা প্রয়োজন।
তবে এই সিদ্ধান্তে অনেক সাধারণ নাগরিক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত এক ব্রিটিশ নারী আন্যি জানান, নতুন নিয়মের কারণে তিনি পূর্ব ইয়র্কশায়ারে থাকা তার অসুস্থ ৯১ বছর বয়সী মাকে দেখতে যেতে পারছেন না। তিনি এ সিদ্ধান্তকে “নিষ্ঠুর” বলে মন্তব্য করেন।
সাবেক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস এই পরিস্থিতিকে “পারিবারিক বিপর্যয়” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নিজ দেশে ফিরে আসা ব্রিটিশ নাগরিকদের একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার, যা এই সিদ্ধান্তের ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালে পরিবর্তন চালুর পর থেকে একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ রাখা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, অবৈধ অভিবাসন ও বিদেশি অপরাধীদের প্রবেশ রোধ করাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
সবশেষে, ভ্রমণের সময় ব্রিটিশ নাগরিকদের অবশ্যই ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা বিদেশি পাসপোর্টের সঙ্গে এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট বহন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।




























