ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে নিউকিøয়ার এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের স্বপ্ন দীর্ঘ দিনের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাঙালী জাতির সেই স্বপ্ন পূরণে ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাশিয়ার সঙ্গে এক চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের রূপপুরে নিউকিøয়ার এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করেন।

এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে ২০২৩ সাল থেকে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশ এতদিন যাবৎ তেল, কয়লা ও গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছে যা পরিবেশ বান্ধব নয়। নিউকিøয়ার এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরিবেশ অনুকুল। এই প্ল্যান্ট দিয়ে স্বল্প ব্যয়ে বিপুল পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে যা উন্নয়নশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। তিনি ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন সেসন থেকে ‘নিউ ক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ’ খোলারও ঘোষণা দেন। তিনি এই বিজ্ঞান সেমিনারের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং এর সাফল্য কামনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শাহিনুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে নিউকিøয়ার এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করেন। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্ল্যান্ট চালু হলে বাংলাদেশের জ্বালানী সমস্যা দূর হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ এর লক্ষ্য অর্জনে এই পাওয়ার প্ল্যান্টের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অপর বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. মো. সেলিম তোহা তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার সহযোগিতার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে রূপপুরে নিউকিøয়ার এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করেন। তিনি রূপপুরের পাওয়ার প্ল্যান্ট সম্পর্কে জনভীতি দূর করার জন্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

আজ (১৬/০৭/২০১৮) বেলা ১১টায় ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মনজারুল আলমের সভাপতিত্বে ইনফর্মেশন সেন্টার অন নিউক্লিয়ার এনার্জি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভো থিয়েটারের যৌথ উদ্যোগে বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তনে ৫দিন ব্যাপী আয়োজিত নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মমতাজুল ইসলাম।
সেমিনারে স্পিকার ছিলেন রাশিয়া ফেডারেশনের উরাল ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাসিকভ ওলেগ, বাংলাদেশ এটমিক এনার্জি কমিশনের সাবেক দুই চেয়ারম্যান যথাক্রমে প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া ও ইঞ্জিনিয়ার এম আলী জুলকারনাইন।

আরও উপস্থিত ছিলেন মি. বোবোকভ ও মিস দারিয়া। তারা বলেন রূপপুর নিউকিøয়ার এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্ট দেশের উন্নয়নের জন্য মাইল ফলক। এর উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে ৭২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে যাতে মোট জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন দাড়াঁবে ৬০,৩০০ মেগাওয়াট। বক্তাগণ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের মডেল তুলে ধরে এর ঝুঁকিমুক্ত ও লাভজনক উপাত্তসহ বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। সেমিনার আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে