দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ সই হতে দেখলাম বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আর এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বললেন, ৪০ বছরের ব্যবসায় এমন সংকট আর আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের আলোচনার কৌশল ও দক্ষতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত ‘ইউএস রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। 

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ সই হলো। কোনো দুর্বল এবং অসমন্বিত সরকারের যদি রাজনৈতিক বৈধতা না থাকে, তাহলে তাদের সফলভাবে দর কষাকষি করার নজির বিরল। বিষয়টি ইতিহাসে এই প্রথম দেখলাম একটি বিষয়কে নন-পেপার না করে সরাসরি এনডিএ করা হয়েছে। যার ফলে এটি এখন একটি বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে। এখন যদি বাংলাদেশ কোনো লবিস্ট নিয়োগ করে, তার কাছেও এই তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে খানিকটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে দেবপ্রিয় বলেন, ‘কর্দমাক্ত জায়গায় নিষ্পাপ সরকার নিয়ে এগুচ্ছি। এমন নির্দোষ আর নিষ্পাপ সরকার আমি আগে দেখিনি। তবে দেবপ্রিয় এও মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন শুল্কনীতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। তা সত্ত্বেও এই উদ্যোগকে তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ওয়েক আপ কল’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আগামী দিনে কোথায় যাবে, তা নির্ধারণে এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিশেষ করে পণ্য বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে আজাদ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক প্রসঙ্গে বলেছেন, আমার ৪০ বছরের ব্যবসা জীবনে এমন সংকট আর আসেনি। একে আজাদ বলেন, আমরা যাদের কাছে রপ্তানি করি, এমন বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চলমান ট্যারিফ নেগোসিয়েশনের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে এবং লবিং করছে। তারা আমাদেরকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ভালো রেজাল্ট পাবে বলে মনে হচ্ছে না।

একে আজাদ বলেন, ‘আমরা যাদের কাছে রপ্তানি করি, এমন বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চলমান ট্যারিফ নেগোসিয়েশনের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে এবং লবিং করছে। তারা আমাদেরকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ভালো রেজাল্ট পাবে বলে মনে হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র থেকে হতাশার কথা আসছে বলে জানান তিনি। একে আজাদ বলেন, ‘আমরা যখন সরকারের সঙ্গে কথা বললাম, লবিস্ট নিয়োগ করার জন্য বললাম, প্রধান উপদেষ্টার অফিসে মেসেজ পাঠালাম, আমাদেরকে এক পর্যায়ে বলা হলো ৯৫ শতাংশ সমাধান হয়ে গেছে। সরকারের উদ্দেশে একে আজাদ বলেন, সাত-আট মাস পরে আপনারা চলে যাবেন, আমরা কোথায় যাব? আমাদেরকে কার কাছে ফেলে যাবেন? এ সময় কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘সবার ধারণা, মাথার ওপর একজন আছেন—তিনি ফুঁ দেবেন, আর সমাধান হয়ে যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে