শহিদুল ইসলাম দইচঃ যশোর শহরে মাত্রারিক্ত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যানজট। এই যানজটের করনে যশোর শহরে জনসাধারণের চলাচল অচল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। দুই মিনিটের পথ এক ঘন্টা অতিবাহিত করতে হচ্ছে। সচেতন মহান মুক্তির পথ খুঁজছে।
শুধুমাত্র জনসচেতনতার অভাব এবং সঠিক মনিটরিং না করা, ট্রফিক পুলিশের দায়িত্ব ও কত্বব্য বোধে অবহেলা, ফুটপাত দখল মুক্তল না করা, দিনের বেলায় কুরিয়ারের সার্ভিসের গাড়ি হরহামেশায় শহরের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া , নিদৃষ্ট সময়ের বাইরে বড় বাজাররে সবজির গাড়ি ঢুকতে দেওয়া, ইজিবাই এবং রিকসা চালকদের মাঝ রাস্তায় যাত্রী ওঠা নামা এবং এদিক ওদিক না তাকিয়ে রিকসা ও ইজিবাইক ঘোরানো, ইজিবাইক ও রিকসা চালকদের ষত্রতত্র থামিয়ে যাত্রি ওঠা নামা বন্ধ করতে না পারা যখন তখন এদিক ওদিক না তাকিয়ে রিকসা এবং ইজিবাই ঢুকিয়ে রাস্তার গরি রোধ করা। কোতয়ালী থানার চার পাশে,প্যারিস রোড,মুজিব সড়ক, এইচ এমএম রোড, দড়াটানার চার পাশের ফুটপাতে দোকান বসিয়ে রাস্তা দখল করে অবৈধ ভাবে ব্যাবসা পরিচালনায় সহযোগিতা না করলে যশোর শহরে যানজট অধ্যেকে নেমে বাসবে। এর পরে রেল রোড়ে রাস্তার অর্ধেক দখল খাবার হোটেলের, যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে দড়াটানার অবস্থা খুই নাজুক। বছর খানেক আগে যানজটের কারনে একজন প্রসুতি নারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে পৌঁছানোর আগেই এম্বুলেন্স এর মধ্যে সন্তান প্রসব করেন।
যানজটের প্রধান আরেকটি কারণ হচ্ছে যশোরের অভয়নগর থেকে শুরু করে যশোর শহরের মুরলির মোড় পর্যন্ত রাস্তার একপাশ বন্ধ করে ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে । যার কারনে হাইওয়ে মূল সড়কের এক পাশ বন্ধ রেখে অপর পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। যশোরের বিশিষ্টজনদের অনেকেই বলেন , যশোর ট্রাফিক পুলিশ যথাযথভাবে কাজ করছেন না। লোক দেখানোর জন্য মোড়ে মোড়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে থাকেন। অথচ ট্রফিক পুলিশ আন্তরিক হলেই যানজট অনেকটাই কমাতে সক্ষম।
অভিযোগ রয়েছে যানযট নিরসনে দায়িত্বে নিয়োজিত ট্ব্যফিক পুলিশ দ্বায় এড়াতে কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায় থেকে মুক্তি পেতে চান। সড়কের প্রতিটি রাস্তায় যানজট যখন বিকট আকার ধারণ করেন তখন মাত্র দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশদের। বাকি সময় চায়ের গল্প করে সময় কাটান এই ট্রাফিক পুলিশ। লেখক, গবেষক, অ্যাক্টিভিস্ট কবি ও দার্শনিক বেনজিন খান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক রাশেদ খান ও যশোরে রাজনৈতিক, সামাজি,স্বাস্কৃতিক, সুশিল সমাজ ও বিশিষ্টজনরা এই প্রতিবেদককে বলেন, ৩০ মিনিটের নিচে কোন সড়কে যানজট কমছে না। এতে সাধারণ মানুষের চরমভাবে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় দুর্ভোগের অন্ত নেই। ট্রাফিক পুলিশ সে তো সর্ষের ভিতর ভূত।
শহর ঘুরে দেখা যায় যশোর শহরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নামে পরিচিত দড়াটানা থেকে চৌরাস্তা-মণিহার, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, চাঁচড়া চেকপোস্ট, চৌরাস্থা থেকে রেলরোড সড়ক ও দড়াটানা থেকে ধর্মতলা সড়ক। এছাড়াও সদর হাসপাতাল সড়ক, ঘোপ সেন্টাল রোড সড়ক,মুজিব সড়ক ঈদগার মোড়, চৌরাস্তা থানার মোড়, আশ্রম রোড সড়ক ও সরকারি এম এম কলেজের সামনে শাহ আব্দুল করিম সড়ক, বিমান অফিস মোড় থেকে আরবপুর মোড় সড়কেও সাধারণ মানুষের চলাচল বেশি। শহরের এসব সড়কে প্রতি মুহুর্তে শত – হাজার লোক মানুষ চলাচল করেন। সকাল থেকেই এসব সড়কে প্রতিনিয়ত উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে। নূন্যতম ত্রিশ মিনিটের নিচে কোন সড়কে যানজট কমছে না। যার সাধারণ মানুষকে বেশ দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে শহরের মধ্যে প্রবেশ করতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যানজট নিরাসন করা সম্ভব না হলে শহরের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে না।
প্রসঙ্গক্রমে বেনজিন খান বলেন, শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে থেকে যেসব ইজিবাইক যাত্রী উঠানামা করেন তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট রেখা বা ছক এ কে দিতে হবে। সেই ছকের মধ্যে থেকে একটি ইজিবাইক বা রিক্সা আসবে যাত্রী নামাবে এবং যাত্রী তুলে স্থান ত্যাগ করবে রাস্তার দখল করে যাত্রী ওঠা নামানো যাবে না। যেগুলি হওয়ার হামেশাই হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদাল বসিয়ে মনিটরিং করতে হবে। যানজটমুক্ত হওয়া সম্ভব শুধু সচেতনতা অভাব।
প্রসঙ্গক্রমে রাশেদ খান সহ অনেকেই বলেন, যশোর শহরের রাস্তাগুলো যে পরিমাণ প্রশস্ত হওয়া দরকার তার তুলনায় সরু ( চাপা)। যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা, চিত্রার মোড়, চৌরাস্তা, ঈদগার মোড়, উপশহর খাজুরা বাস স্ট্যান্ড, রেলগেট সহ শহরের সড়ক গুলিতে দীর্ঘ যানজটের লম্বা লাইন পড়ে যায়। পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হওয়ার সুযোগ নেই।আর স্কুল -কলেজ ছুটির সময় আরো বেশি যানজট বৃদ্ধি পায়। এর মূল কারণ রিকশা এবং ইজিবাইক চালকদের নিয়ম শৃংঙ্খলা মেনে না চলা। খুব দ্রুতগতিতে চালানো। একটা আর একটিকে ওভারটিক করা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো নামানো। এছাড়া ঈদগার পাশে আইনজীবী সামনে অসংখ্য ইজিবাইক এলোপাথাড়ী যাত্রীদের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। এতে ব্যস্ততম সড়কের অর্ধেক দখলে থাকে ইজিবাইকের। একইভাবে শহরের চৌরাস্তা দড়াটানা, খাজুরা স্ট্যান্ড ও মনিহার চত্বর সবসময় দখল করেই রাখে ইজিবাইক এবং রিকশাচালকরা। ফুটপাত দখল করে রাখা তো আছেই।
যশোরের বিশিষ্টজনরা বলেছেন, পৌরসভার অস্বাভাবিকভাবে রিকশা এবং ইজিবাইক চালকদের অনুমোদন দিয়েছেন এই অনুমোদন বন্ধ করতে হবে। ইজিবাইক ও রিক্সা চালক সমিতি এবং মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে পরিকল্পিতভাবে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে একটার সাথে একটি তার পরে আরেকটি ইজি বাইককে দাঁড়িয়ে থেকে রাস্তার অর্ধেক দখল করে রাখাতে দেওয়া যাবে না। ফুটপাত দখল মুক্ত করে হকারদের পৌরসভা এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র(হকার) ব্যবসায়ীদের সরিয়ে স্টেডিয়ামের পাশে স্থানান্তরিত করতে হবে । শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়া টানার মধ্যে কোন খালি রিক্সা এবং ইজিবাইক ঢুকতে দেওয়া যাবে না। তাহা হলে শহরের যানজট অনেকটাই কমবে দাবি বিশিষ্টজনদের। বক্তব্য নেয়ার জন্য যশোরের পুলিশ প্রধান জেলা (পুলিশ সুপার (জনক জাহানের সাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে যশোর ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মাহফুজুর রহমান বলেন, যশোর শহরে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ নীরলস ভাবে কাজ করছে। ২৪ ঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানজট নিরসন ভূমিকা রাখছে ট্রাফিক পুলিশের ৮২ জন সদস্যে। এর মধ্যে পাঁচজন টিআই, ৮ জন সার্জেন্ট, পাঁচজন টিএসআই, ১৫ জন এটিএসআই, এবং ৪৮ জন ট্রাফিক কনস্টেবল।
জানতে চাইলে যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নূর ই আলম সিদ্দিকী বলেন, জনসচেতনতা বিকল্প নেই। জন সচেতনতা সৃষ্টি করে ট্রাফিক পুলিশ মাঠে কাজ করছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ যানজটেশনে কাজ করে চলেছে। যশোর শহরে যাতে যানজট মুক্ত মুক্র করা যায় সেক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের যা যা করার দরকার তা অবশ্যই করবে। জানতে চাইলে যশোর পৌরসভার প্রশাসক মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি আন্তরিক যশোর শহর যানজট মুক্ত হোক। সেক্ষেত্রে আমার যা যা করার দরকার আপনাদের সাথে নিয়ে করতে চাই। জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আপনার এই রিপোর্টটি আলোচনায় আনবো।
জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে যশোর শহরের যানজট একটি বড় সমস্যা। জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে পুলিশ সুপার, পৌরসভার প্রশাসক, সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক, র্্যাব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা সহ যশোরের বিশিষ্টজনরা থাকেন। যানজট নিরেশনে ভূমিকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বলছিলেন যশোরের যোগ্য জেলা প্রশাসক।
যশোর নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইমস নিউজ


























