বাংলার ষড়ঋতুর আবর্তনে শীত বিদায়ের পথে, ফাল্গুনের আগমন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের গাছে গাছে আগেভাগেই ফুটে উঠেছে আমের মুকুল। ডালে ডালে দুলছে মুকুল, ছড়িয়ে দিচ্ছে মনকাড়া সুগন্ধ।
চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, যা বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে এক মধুর আবেশ। মৌমাছিরা মধু আহরণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে, ছোট ছোট পাখিরাও উড়ে আসছে মুকুলের মধুর টানে। প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য যেন জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। জেলার চা-বাগান, গ্রামাঞ্চল ও নার্সারির আম গাছগুলোতে আগাম মুকুল ধরেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হতে পারে।
কমলগঞ্জের শমসেরনগর আম বাগানের মালিক আজাদ মিয়া বলেন, “প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গাছে মুকুল আসছে। কিছু গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে, বাকিগুলোতেও দ্রুত মুকুল বের হচ্ছে। আমরা নিয়মিত পরিচর্যা করছি এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিচ্ছি।”
নার্সারি মালিকদের মতে, গত এক সপ্তাহে তাদের বাগানে ব্যাপক হারে আমের মুকুল এসেছে। গাছের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে তারা পরিচর্যা অব্যাহত রেখেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, “আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে এবং এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। তবে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ উপপরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, “এ বছর আগাম মুকুল এসেছে, যা ভালো লক্ষণ। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং যথাযথ পরিচর্যা করা হলে এবার আমচাষিদের জন্য একটি সফল মৌসুম হতে পারে।”
সব মিলিয়ে, কমলগঞ্জের আমবাগানগুলোতে আগাম মুকুলের উপস্থিতি চাষিদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমলগঞ্জ নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইমস নিউজ



























