এস.এম.পারভেজ, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে জমে উঠেছে ঝালকাঠির পশুর হাটগুলো। জেলায় বিভিন্ন স্থানে এখন পর্যন্ত মোট ৩০টি হাট বসেছে। জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট সদর উপজেলার বিনয়কাঠী ইউনিয়নের সুগন্ধিয়া হাটটি ঘুড়ে দেখা গেছে ইতি মধ্যে হাটটি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। হাটটি ঝালকাঠি জেলা ও বরিশাল জেলার সংলঘ্ন হওয়ায় ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা এখানে আসেন এবং পশু ক্রয় বিক্রয় করেন। এই হাটটির একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে এখানে কোন ইজারা নাই। ইজারা না থাকায় এখানে ক্রেতা ও বিক্রেতারা কোন ধরনের খাজনা ছাড়াই পশু ক্রয় বিক্রয় করতে পারছেন যার কারনে এই হাটটির প্রতি সকলের আগ্রহ বেশি। পশু বিক্রেতারা জানান বর্তমানে তাদের বেচাকেনা অশানুরুপ শুরু হয়নি, তার কারন হচ্ছে বাকি দিনগুলো পশু লালন পালনের জামেলার ভয়ে ক্রেতারা এখনই পশু ক্রয় করতে চাচ্ছেন না।

জেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রায় ১৯হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এসব পশুর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস, খড়, বিভিন্ন প্রকারের ভ‚ষি, ডালের গুঁড়া, ভাত, ভাতের মাড়, খৈল ও কিছু ভিটামিন খাইয়ে মোটাতাজা করছে পারিবারিক খামারিরা। বাড়তি লাভের আশায় বাড়িতে বাড়িতে পশুর বাড়তি যত্ন আর লালন পালনে নারী পুরুষ মিলে ব্যস্ত সময় পার করছেন পারিবারিক খামারি পরিবারগুলো।

জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সূত্র আরো জানা যায়, এ বছর ঝালকাঠি জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে আঠারো হাজার একশ একুশটি। কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে আঠারো হাজার আটশ বাষট্টিটি। এসব গবাদি পশুর মধ্যে ষাড় আট হাজার একশ এগারোটি, বলদ তিন হাজার দুইশত একত্রিশটি, গাভী দুই হাজার একশ আটাশিটি, মহিষ ৩৭টি, ছাগল পাঁচ হাজার দুইশত ছিয়ানব্বইটি, সতেরোটি ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে পারিবারিক খামারি রয়েছে তিন হাজারেরও বেশি। কোরবানির জন্য আঠারো হাজার একশ একুশটি পশুর চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত রয়েছে আঠারো হাজার আটশ বাষট্টিটি। উদ্বৃত্ত সাতশ একচল্লিশটি স্থানীয় বিভিন্ন হাটের চাহিদা পুরণ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ঝালকাঠি প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষ।

সদর উপজেলার দারাখান গ্রামের ওয়ালিউর রহমান বলেন, বর্তমানে হাটে ও পারিবারিক খামারে তার দেশি-বিদেশি মিলে ১০টি ষাঁড় আছে। তার খামারে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের পশু আছে। সদর উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার কঙ্কন ব্যাপারী জানান, ১২টি গরু নিয়ে তিনি পারিবারিক খামার গড়ে তুলেছেন। এরমধ্যে ৪টি দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভী এবং কুরবানিতে বিক্রির জন্য ৫টি বলদ রয়েছে। বাকিগুলো বিক্রির অনুপযোগী। তবে যে পরিমাণে গো খাদ্যের দাম তাতে খরচ পুশিয়ে লাভ করাটা খুবই কষ্ট সাধ্য।

পারিবারিক খামার পরিচালনাকারী সুজন সরকার বলেন, গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ৩৭কেজি ওজনের এক বস্ত গমের ভুষির বর্তমান বাজার মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা, পুর্বে ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। ৭৪ কেজির এক বস্তা খৈল এখন ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা, গত বছর ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। ৫০ কেজি ধানের কুঁড়ার দাম ৯০০ টাকা, গত বছর ছিল ৭০০ টাকা। প্রতি কেজি খড় এখন ১৫ টাকা, আগে ছিল ১০ টাকা। এছাড়া খেসারি ও ছোলার ভুষির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। গত কয়েক বছরে ৭ থেকে ৮ দফা গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। ঝালকাঠির খামারিদের ভয় হচ্ছে মৌসূমী ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে গরু আমদানি করলে ন্যায্য মূল্যে গরু বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে অনেক।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. মো. ছাহেব আলী জানান, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা জেলার বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে কথা বলেছি। প্রতিটি হাটে ব্যাংকের লোক থাকবে। গবাদি পশু ক্রেতা এবং বিক্রেতারা যে কোন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট এবং কিউআর কোড ব্যবহার করে ই-ব্যাংকিং লেনদেন সেবা গ্রহণ করতে পারবে। জেলায় প্রায় ১৯ হাজার পশু ক্রয় বিক্রয় হবে বলে আমরা আশা করছি। জেলার ৪উপজেলার প্রতিটি উপজেলার খামার পরির্দশন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ ওষুধপত্র দিচ্ছি।

ঝালকাঠি নিউজ ডেস্ক ।। বিদি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে