জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ৫০’শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে নানস অভিযোগ। এ অভিযোগের যেন শেষ নেই। উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিয়েও রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য সেবা অবহেলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা এম্বুলেন্সের সেবা নিয়ে রয়েছে রোগীদের অভিযোগ। এর ফলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

জরুরী সেবা নিতে জেলা শহরের হাসপাতাল গুলোতে দ্রুত সময় পৌঁছাতে এম্বুলেন্সের প্রয়োজন হয়। মাঝে মধ্যে এম্বুলেন্সের ব্যবহার হলেও প্রায় সময় অকেজো হয়ে পরে থাকে হাসপাতালে থাকা এম্বুলেন্সগুলো। গত বছরের ২৯ অক্টোবর আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ভারত সরকারের দেওয়া উপহারের একটি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। কিন্তু এই এম্বুলেন্সটি এখনো কোন জরুরি স্ব্যাস্থ সেবার কাজে ব্যবহার করস হয়নি। ভুক্তভোগী মানুষের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের সামনে গাড়ি রাখার গ্যারেজে অরক্ষিত ভাবে পরে রয়েছে এই এম্বুলেন্সটি।

হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হলে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে রোগীর জন্য হাসপাতালের এম্বুলেন্সের সেবা পেতে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়। মাঝে মধ্যে এম্বুলেন্স নষ্ট বা চালক নেই এরকম কথা বলা হয় হাসপাতাল থেকে, তখন কোন উপায় না পেয়ে সিএনজি বা প্রাইভেটকার অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে রোগীকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এতে করে উপজেলার প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার ২১৫ জন মানুষ হাসপাতালে থাকা অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, লাইফ সাপোর্ট এম্বুলেন্সটি পরিচালনার জন্য দক্ষ কোন কর্মী না থাকায় এই এম্বুলেন্সটি সাধারণ রোগীর জন্য ব্যবহার কারা যাচ্ছে না। পাশাপাশি এই হাসপাতালের এম্বুলেন্সের চালক পদটিও শূন্য রয়েছে বর্তমানে।

বিশ্বস্ত সুত্রে আরো জানা য়ায়,২০২১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক তাজুল ইসলাম পেনশনে গেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়ি চালক আবু বকরকে উক্ত এঢ়াম্বুলেন্স চালানোর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, আবু বকর যখনই তার মূল দায়িত্বে ফিরে যায় তখনই শুরু হয় জটিলতা। আর এতে করে চালক সংকটে পুরোপুরি এম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষসহ সেবা নিতে আসা রোগীরা। এ’বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হিমেল চৌধুরীর বলেন,লাইফ সাপোর্ট এম্বুলেন্সটি ব্যবহারের জন্য আমাদের এইখানে আইসিও লেভেলের কোন মুমূর্ষ রোগী নেই। আমােদর একটি নতুন এম্বুলেন্স আছে, সেটির মাধ্যমে রোগী সেবার কার্যক্রম চলছে। তবে সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হল আমাদের এখানে অ্যাম্বুলেন্সের কোন নির্দিষ্ট চালক নেই। যে কারণে আমরা এম্বুলেন্স গুলোর পরিপূর্ণ সেবাটি দিতে পারতেছিনা।

তাছাড়া আমার জিপ গাড়ির জন্য যে আউটসোর্সিং চালক রয়েছে তাকে দিয়েই জরুরী ভিত্তিতে জেলা শহর পর্যন্ত এম্বুলেন্স সেবা দিয়ে আসছি। আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রত্যেক মাসিক মিটিং-এ চালক সহ হাসপাতালের যে শূন্য পদগুলো রয়েছে সেই গুলোতে জুরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাহিদা দিয়ে আসছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আমাদের আশ্বাস ও দিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে