সুনামগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা।। বাংলাদেশের মধ্যে পাথরের জন্য সুনামধন্য জেলা সুনামগঞ্জ ও সিলেট। ভারত থেকে নেমে আসা প্রাকৃতিক এই খনিজ সম্পদের দ্বারা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে রাজস্বের পাশাপাশি লোকজনের কর্মসংস্থানের বিরান ভুমিও বটে। আর নানাবিধ কারণে ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ সব পাথর কোয়ারীগুলো দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। ফলে কোয়ারীতে কর্মরত শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন যাবত বেকারত্বের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। এমনিতে দেশে করোনা মহামারির কারণে অনেকেই কষ্ট করে দিনযাপন করছে,আবার অনেকে হয়ে পড়েছে কর্মহীন।

কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট উপজেলায় অবস্থিত পাথর কোয়ারি গুলো দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকায় এই ক্ষেত্রে নিয়োজিত হাজার হাজার পাথর শ্রমিক কর্মহীন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শ্রমজীবী মানুষেরা কাজের সন্ধানে বেরিয়ে কোথাও কাজ না পেয়ে সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব করে এই পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেয়ার দাবিতে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট উপজেলায় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে প্রতিদিন পাথর শ্রমিকরা মিছিল, সমাবেশও মানববন্ধন পালন করছেন।

জাফলং, বিছনাকান্দি,ভোলাগঞ্জ, শ্রীপুর’সহ বিভিন্ন এলাকায় যুগ যুগ ধরে পাথর আহরণের মাধ্যমে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল।সিলেটের পাথর কোয়ারিতে পাথর আহরণ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বংশ পরম্পরায় জীবিকানির্বাহ করে আসছে। আহরিত এ’পাথরের রয়্যালিটি বাবত সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকারাজস্ব পেয়ে আসছিল।

সিলেটের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি পাথর আহরণ এবং বিপণন হঠাৎকরে বন্ধ করে দেয়ায় দির্ধদিন ধরে সিলেটের উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী দুঃখ-কষ্টেনিপতিত হয়েছে। আহরিত এ পাথর বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টোনক্রাশার, মিল মালিক, পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক, ট্রাক্টর, শ্রমিক, বার্জ, কার্গো, নৌকামালিক শ্রমিক, পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সিলেটের এপাথরের গুণগতমান উন্নত হওয়ায় দেশের নির্মাণ শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল হিসেবে এ পাথরব্যবহার হয়ে আসছিল। কোয়ারি বন্ধ থাকায় পঙ্গু হয়ে গেছে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা। কষ্টে পড়েছেন পাথরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক। সর্বোপরি বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। মানববন্ধনকারীরা এর পিছনে অন্য কোন ঈন্ধন রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। কোয়ারী চালু হলে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে ঠিক তেমনী দেশের ঐ অঞ্চলের মানুষেরা কিছুটা হলেও বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচবে। তাই অতি শীঘ্রই পরিবেশবান্ধব ভাবে কোয়ারী গুলো চালুর জোর দাবি জানান তারা সরকারের কাছে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন খান এবং যুগ্ন আহবায়ক বাবলুভক্ত ছাড়াও শ্রমিক ও এলাকার লোকজন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে