ছবি ঃ রাফিয়া আহমেদ
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিভেদ ভুলে আবারও সমন্বিত আন্দোলনে নেমেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক ব্রিফিংয়ে তারা সুনির্দিষ্ট ঘোষণার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
৭ মে পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা না করা প্রশ্নে মঙ্গলবার সকাল থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র বাইরেও আরো অন্তত দুটি গ্রুপ তৈরি হয়।
তবে, জাতীয় সংসদে মতিয়া চৌধুরী’র বক্তব্য ভুলভাবে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় এবং মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী ‘বাজেটের আগে কোটা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব নয়’ দুই মন্ত্রীর এমন বক্তব্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবার আন্দোলন করছে আন্দোলনকারীরা।
‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র আহ্বায়ক হাসান আল মামুন যমুনা অনলাইনকে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিতি নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭ মে পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবো। কিন্তু সবাই এ বিষয়ে একমত ছিলো না। এখন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী আমাদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন বাজেটের আগে সংস্কার সম্ভব নয়। এর প্রতিবাদে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সরকারের এই দুই মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হাসান বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও তা থেকে সরে এসেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস, পরীক্ষা বর্জনের নতুন কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ও এ ইস্যুতে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সোমবার বৈঠক শেষে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিলেও পরদিন তা প্রত্যাখান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীদের একাংশ। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর সামনে জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন তারা, আন্দোলনকারীদের নিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কটূক্তি করেছেন অভিযোগ করে বক্তব্য প্রতাহারের আহ্বান জানান তারা। একই সাথে সাত দিনের মধ্যে কোটা সংস্কারের দাবি তাদের।
একদিন আগে একমাস আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদও বিকেলে বিক্ষোভে যোগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর সামনে থেকে মিছিল নিয়ে তারা যোগ দেয় রাজু ভাস্কর্যের সামনের সমাবেশে।
বিকেলের সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় অন্দোলনের নতুন কর্মসূচি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও চলছে আন্দোলন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
নিউজ ডেস্ক । বিডি টাইম্স নিউজ


























