
রুমন চক্রবর্তী, কিশোরগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা।। আগামী ১’লা অক্টোবর শনিবার মহাষষ্ঠী পূজোর মাধ্যভমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হবে। এ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমা নির্মাণের কাজ। সেখানে প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা। প্রতিমা শিল্পীরা রঙতুলির আচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেব-দেবীর অবয়ব। অন্যদিকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা আয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবার জেলার ১৩টি উপজেলায় ৪৩৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক।
বেশিরভাগ মন্ডপে প্রতিমা তৈরিতে মাটি ও রঙের কাজ শেষ করে এনেছেন শিল্পীরা। কোথাও কোথাও সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ। রঙতুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দুর্গতিনাশিনী দুর্গার অবয়ব। দুর্গার সঙ্গে স্থান পাচ্ছে লক্ষী, কার্তিক ও গনেশের মুর্তিও। সবমিলিয়ে চারিদিকে সাজসাজ রব। তবে গত দুবছর করোনার কারণে কমে গেছে প্রতিমা শিল্পীদের কাজ। আয়-রোজগারও কমে গেছে তাদের। প্রতিমা তৈরি পেশা হলেও আগের মতো আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছে না তারা।
প্রতিমা শিল্পী শ্যামল পাল এবার কয়েকটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। তিনি জানান, করোনা রোগটি আসার পর থেকে কাজ অনেকটা কমে গেছে। তাছাড়া জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতন আর লাভ পাওয়া যাচ্ছেনা। যে পেশাকে ঘিরে আমাদের জীবন-জীবিকা এখন সে পেশাটিই হুমকির মুখে। এভাবে কাজ করা খুব মুশকিল হয়ে পড়েছে। তাই সরকারের কাছে আমাদের বিষয়টি ভাববার অনুরোধ জানাচ্ছি। আরেক প্রতিমা শিল্পী নিরঞ্জন পাল। প্রতিমা তৈরির নিখুত হাত। তার হাতের ছোয়ার প্রতিমার অবয়ব গুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, যতই দিন যাচ্ছে ততই আমরা প্রতিমা কারিগররা খুব অভাব অনটনের পথে হাটছি। বিশেষ করে প্রতিমা তৈরিতে যেসকল জিনিসপত্র ব্যবহার করতে হয়, তার দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের লাভের অংকটা কম গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে হয়তো অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দেবেন। গতবছর জেলায় ৪০৭টি মন্ডপে পূজা হয়েছিল এবার তা বেড়ে ৪৩৫টি মন্ডপে পূজা হবে। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ দুর্গোৎসব সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন আয়োজকদের সঙ্গে। প্রতিমা তৈরীর পাশাপাশি চলছে মন্ডপসহ মন্দিরের শোভাবর্ধনের কাজ। তাদের আশা, দেবী দুর্গার আর্শিবাদে সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে দেশ।
পূজা উৎযাপন পরিষদ এর সভাপতি মাখন দেবনাথ জানান, দুর্গাপূজায় নতুন কাপড় ও প্রসাদ বিতরণ, আরতি, জমাকালো অনুষ্ঠানসহ পূজার ধর্মীয়পর্বগুলোর কোনো ঘাটতি থাকবে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভক্তদের সেবায় নিয়োজিত থাকব। তাছাড়া যেহেতু এটি একটি সার্বজনীন পূজো তাই সেদিকটা গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তার প্রতি জোড় দেয়া হচ্ছে বেশি। প্রতিবছরের মতো এবারও আনন্দমুখর পরিবেশে দূর্গাপূজা পালনের আশাবাদ জানিয়ে পূজা উদযাপনে সব মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, প্রতিবারের মতন এবারও শারদীয় দুর্গোপূজো উপলক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা প্রতিটি পূজা মন্ডপের আয়োজকদের সাথে কথা বলছি। প্রতিটি মন্ডপের পূজা নির্বিঘ্নে রাখতে পুলিশ, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশাকরি প্রতিবারের মতন এবছরও সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে।

কিশোরগঞ্জ নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























