জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি বাস স্ট্যান্ড থেকে লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের বাড়িখলা গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।এসব অনিয়ম- দূর্তীনির অভিযোগ আমলে নিচ্ছেননা ঠিকাদার। বরং তা সত্বেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মের্সাস বিজিল্যান্ড কনস্ট্রাকশন।

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন। জানা যায়, সরকারের জিওবি মেন্টেনেজ প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুই কোটি ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্ধে ২৫০০ মিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস বিজিল্যান্ড কনস্ট্রাকশন।বিজিল্যান্ড কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহারকারী মোহাম্মদ সুমন মিয়া এবং মোহাম্মদ গোলাপ মিয়া এই কাজ শুরু করেন বলে জানা যায়।সরেজমিনে জানা যায়,এ রাস্তা সংস্কারে নিম্নমানের ইট, ইটের খোয়া ব্যবহার করে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।এছাড়া সড়কের পাশে থাকা গাইডওয়াল গুলোও একেবারে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ করার আগেই কিছু কিছু যায়গা ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও পুরো রাস্তাটি ১৬ ফিট করে করার কথা থাকলেও কোথাও ১০ ফিট,কোথাও,১৪ আবার কোথাও ১২ ফিট করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা এবং ২৫০০মিটার রাস্তায় প্রায় ৪৩টি গাছের গুঁড়ি রেখেই অধিকাংশ রাস্তার পিচ ঢালাইর কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে কেউ বাধা দিতে আসলে তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে বিদায় করে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অফিসের কতিপয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতার বিনিময়ে নিম্নমানের ইট, খোয়া এমনকি পুরোনো রাস্তায় পিচ কার্পেটিংয়ের অংশ পরিশোধন না করেই তা মিশিয়ে দিয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছে বলে সচেতন এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন। তবে কাজের শুরু থেকেই তদারকি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে এসব অনিয়ম করে চলছে। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে সড়কের কাজে বাধা দেন। খারাপ ইট দিয়ে রাস্তা তৈরি করে পিচ ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তত করে চলছে রাস্তায় পিচ ঢালাই’র কাজ।।এ কাজ সমাপ্ত হলে ৬ মাসও টিকবে না বলে দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে দায়িত্বে থাকা বিজিল্যান্ড কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কিছুদিন আগে দৌড়ে পালিয়ে যান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ গোলাপ মিয়া বলেন,আমরা রাস্তার পিচ ঢালায় এর অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করেছি,এইখানে ৪৩টি গাছের গুড়ালি রয়েছে,স্থানীয় একজনকে বলেছিলাম গুড়ালি গুলো কেটে দেয়ার জন্য সে আমার কাছে ১২ হাজার টাকা চাইছে,আমি তাকে ৬ হাজার টাকা বলছি, তবুও সে কাজটি করেনি। এখন অন্য লোক দিয়ে এগুলো কাটার ব্যবস্থা করতেছি।

ইউপি সদস্য মোহাম্মদ বশির উদ্দিন বলেন, ওই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তা সংস্কার শুরু করেছে। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান’র সংশ্লিষ্ট অফিসে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।আমরা চাই আমাদের কাজ সঠিক ভাবে করা হোক।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আওয়াল রবি জানান,করইবাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য আমাকে রাস্তার কাজের অনিয়মের ব্যাপারে জানিয়েছে,সে জন্যে আমি নিজে সড়জমিনে কাজের স্থানে গিয়ে অনেক অনিয়ম দেখেছি। এ বিষয়ে ।আমি উপজেলার সংশ্লিষ্ট অফিসে মৌখিকভাবে জানিয়েছি,আমি চাই এই রাস্তার কাজ সঠিকভাবে করা হোক।এই বিষয়ে জানার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস বিজিল্যান্ড কনস্ট্রাকশন’র লাইসেন্স ব্যবহার কারী মোহাম্মদ সুমনের মোবাইলে একাধিক বার ফোন করিলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসতিয়াক হাসান জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে বর্তমানে উক্ত সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমি স্বয়ং তদন্ত করে এবং গুণগত মান ঠিক করেই সংস্কার কাজ শেষ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে