কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদ নামে খ্যাত ছিল কুষ্টিয়া জেলা। সে সময় কুষ্টিয়ার প্রতিটি গ্রামে গঞ্জে রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠেছিল চরমপন্থীরা। বেশ কয়েক বছর পর আবার ঝাউদিয়া ইউনিয়নটি রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠেছে। চরমপম্হীদের অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ঝাউদিয়াসহ কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের কার্যক্রম ও অপতত্পরতা এখন না থাকলেও তাদের অনেকেই এখন খোলস পালটে প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয়। চরমপম্হী দলের নেতৃত্বদানকারী কেউ কেউ এখন এলাকায় অধিপত্য বিস্তারে নেপথ্যের খলনায়ক হিসেবে আবিভূ‌র্ত হয়েছেন। ফলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবদমান গ্রুপের দ্বন্দ্বে থামছে না সহিংসতা ও খুনোখুনি। অতি সম্প্রতি চার খুনের ঘটনায় জনমনে চরম ভীতি বিরাজ করছে।

স্বাধীনতার পর এ ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার ও সামাজিক দ্বন্দ্বের জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। গত ২ মে আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত উল্লাহ ও ফজলু মেম্বরের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে লাল্টু (৪০),মতিয়ার মন্ডল (৪৫), কাশেম মন্ডল (৫৫) এবং কেরামত গ্রুপের রহিম মালিথা (৬০) ঘটনাস্হলেই নিহত হন।সংঘটিত চার খুনের ঘটনায় আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো ঝাউদিয়া গ্রাম। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকা এখন চরম উত্তপ্ত।এরআগে ২০১৯ সালে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বাখল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত আলী সমর্থক ও ইউপি আওয়ামী লীগের তত্কালীন সভাপতি বখতিয়ার হোসেনের সমর্থকদের সম্মুখযুদ্ধে খুন হয় তিন জন। ঝাউদিয়ার হাড়ুলিয়া বিল ও চাপাই বিলের নিয়ন্ত্রণসহ এলাকার অধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখানে দীর্ঘকালের দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগেই আছে।

কেরামত আলী ও বখতিয়ার হোসেন এখন আওয়ামী লীগ নেতা হলেও তারা দুই জনই এক সময়ে চরমপম্হী কানেকটেড ছিল বলে নাম প্রকাশে স্হানীয়রা জানিয়েছে। এ দুই জনই বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এলাকায় দোর্দন্ড প্রতাপশালী। তাদের রয়েছে বাহিনী ও বিরাট সমর্থকগোষ্ঠী। ফলে তাদের ভয়ে তটস্হ এলাকাবাসী। কেরামত ও বখতিয়ার গ্রুপ ছাড়াও ঝাউদিয়ায় রয়েছে আরো গোষ্ঠী-সামাজিক দল। এরা সবাই সুবিধাবাদী। যে সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তাদের ছায়াতলে এসব সুবিধাবাদীরা আশ্রয় নেয়। এসব সুবিধাবাদীদের রয়েছে অস্ত্র ভাণ্ডার ও সন্ত্রাসী বাহিনী।

আধ্যিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে এরা তত্পর। এ এলাকায় এখন চরমপম্হী তত্পরতা থেমে গেলেও সামাজিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও খুনোখুনিতে এলাকা আবারও হয়ে উঠেছে অশান্ত। সম্প্রতি সংঘটিত চার খুনের ঘটনার জের ধরে আবারও রক্ত ঝরতে পারে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা। পুরো ঝাউদিয়া গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। এখন গ্রামীবাসীর দিন কাটছে চরম ভীতি ও আতঙ্কে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অভিযোগে সন্দেহভাজন সাত আসামি ও এজাহারভুক্ত চার জনসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কুষ্টিয়া জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী জানান, ঝাউদিয়ায় চার খুনের ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিবদমান কেরামত ও ফজলু গ্রুপ আওয়ামী লীগের হলেও ঘটনাটি ঘটেছে সামাজিক আধিপত্যের জের ধরে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ অঞ্চলে এখন চরমপম্হীদের কোনো তত্পরতা নেই। মূলত: সামাজিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে বিবদমান কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে সক্রিয়।

কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে