শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করায় সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ ড. জাফর ইকবাল ও তাঁর সহধর্মিণী ড. ইয়াসমিন হক। এর আগে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে ভোররাত ৪টায় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছান তিনি।
অনশন ভাঙানো পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকে নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা যে দাবিতে আন্দোলন করছো এ দাবি যৌক্তিক। যে ভিসির বাসভবনের সামনে এতোগুলো শিক্ষার্থী না খেয়ে শুয়ে আছে, অথচ তিনি একবারও এসে দেখলেন না। তিনি কখনো ভিসি হতে পারেন না। আমিও তোমাদেরকে টাকা দিলাম। তাহলে আমাকেও গ্রেফতার করা হোক।
শিক্ষার্থীদের জাফর ইকবাল বলেন, ‘সরকার থেকে আমাকে কথা দেওয়া হয়েছে সকল মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং কাউকেই হয়রানি করা হবে না। আজকে তাদেরকে কোর্টে উঠানো হবে এবং তাদেরকে আর কখনো থানায় আসতে হবে না। আমাকে উচ্চমহলের ব্যক্তিরা এই কথা দিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, ১৩’ই জানুয়ারি সিরাজুন্নেছা ছাত্রী হলের প্রভোস্ট জাফরিন লিজার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ছাত্রীরা। এ দাবিতে ১৬ জানুয়ারি আইআইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখলে সন্ধ্যায় ঘটে তুলকালাম কাণ্ড। সে সময় পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হন অর্ধশত শিক্ষার্থী। এরপর থেকেই শুরু হয় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন। দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতি বরাবর খোলা চিঠি। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় আমরন অনশন। অনশনের প্রথম দিন থেকে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন শিক্ষকরা। পরে ২০’শে জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আলোচনার বার্তা নিয়ে আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। ওইদিন বিকাল ৩টায় মুঠোফোনে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে শিক্ষার্থীদের আলাপ করিয়ে দেন তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীদের আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন শিক্ষামন্ত্রী৷ তাঁর প্রস্তাবে প্রথমে সম্মত হলেও পরে ঢাকায় না এসে অনলাইনে আলোচনার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, শুক্রবার রাতে শাবিপ্রবি শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন। শনিবার সন্ধ্যায় শিক্ষকদের বৈঠকের পর ওইদিন রাত ১টায় অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আলোচনা হয়। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী অনশন ভেঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনঢ় থাকেন। এর প্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে ফের শিক্ষামন্ত্রীর সাথে শিক্ষার্থীদের আলোচোনায় বসার কথা থাকলেও তা আর হয়নি।এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবাল এবং ইয়াসমিন হক।
ক্যাম্পাস ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ

























