কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন অনুষদের কৃতি শিক্ষার্থীদের অনার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ ২’রা জানুয়ারি রবিবার বিকাল ৩টায় কুবি ভার্চুয়াল কক্ষে কৃতি শিক্ষার্থীদের এ অনার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড মুহ. আমিনুল ইসলাম আকন্দ এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিনস্ধসঢ়; অনার অ্যাওয়ার্ড উপ কমিটির আহবায়ক এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমান। প্রধান অতিথি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিক্ষালাভের সুযোগ পায় তারা সৌভাগ্যবান। কারণ, এখানে শিক্ষার যে ব্যয় তার সিংহভাগ বহন করে রাষ্ট্র। কিন্তু এ ব্যয়ের অর্থ যোগান দেয় এ দেশের সাধারণ মানুষ। তাই শিক্ষার্থীদের পাস করার পর সে দায়বদ্ধতার কথা মনে রাখতে হবে এবং দেশের সেবা দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার শুধু বস্তুগত নয়, গুণগতমান উন্নতকরনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বিশেষ অতিথি মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, সাফল্য লাভ আরও বেশি সাফল্য লাভের দিকে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের মেধা আর পরিশ্রমের স্বীকৃতিই ডিনস্ধসঢ়; অনার অ্যাওয়ার্ড। তিনি বলেন, ভাল শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি ভাল মানুষ হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদেরকে সোনার মানুষ হতে হবে। এই অ্যাওয়ার্ড আপনাদেরকে সোনার মানুষ হতে উদ্বুদ্ধ করবে। আপনাদের প্রতি রাষ্ট্রের যে বিনিয়োগ তা যেন আপনারা যথাযথভাবে শোধ করতে পারেন সে কামনা করি।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন অনুষদের স্নাতক ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ তেকে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ এবং স্নাতকোত্তরে ২০১০-১১ থেকে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মোট ৫১ জন শিক্ষার্থীকে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তারমধ্যে স্নাতক পর্যায়ের আট শিক্ষাবর্ষের সর্বমোট ১৮ জনকে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, গণিত বিভাগের হোমায়রা দিল আফরোজ ও ফারহানা ইয়াসমিন, পরিসংখ্যান বিভাগের উম্মুল খায়ের সুমি ও সোনিয়া আকতার, অর্থনীতি বিভাগের নয়ন তারা ও স্বর্ণা মজুমদার, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সংগীতা বসাক, মো. রফিকুল ইসলাম ও শাকিলা ফেরদৌস, এআইএস বিভাগের অরূপা সরকার ও রাবেয়া জামান, মার্কেটিং বিভাগের নাসরিন আকতার ঝুমুর ও তানজীনা ইয়াসমিন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের রিপা আকতার, সিএসই বিভাগের নয়ন বণিক, আইসিটি বিভাগের আমেনা বেগম, মো. কামরুল হাসান এবং পিন্টু চন্দ্র পাল।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছয়টি শিক্ষাবর্ষ থেকে সর্বমোট ৩৩ জনকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হযেছে। তারা হলেন, গণিত বিভাগের সামিয়া তাহের, খাদিজা বেগম, পারভীন আকতার, হোমায়রা দিল আফরোজ ও মাহিনুর আকতার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সানজিদা হক ও অন্তরা তাজরীন তৃণা, পরিসংখ্যান বিভাগের কনকন আচার্য, রসায়ন বিভাগের শারমিন আক্তার রুপা ও মো. আলাউদ্দিন হোসাইন, অর্থনীতি বিভাগের মো. মাসুদ রানা, মো. সাইফুল ইসলাম, স্বর্ণা মজুমদার ও সায়েদা সুরাইয়া সুলতানা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ইসরাত জাহান লিপা, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের মো. জাহিদ হাসান, সঙ্গীতা বসাক, মো. রফিকুল ইসলাম ও শাকিলা ফেরদৌস, এআইএস বিভাগের ফাহমিদা হোসাইন, তৃণা সাহা, ফাহিমুল কাদের সিদ্দিকী ও মো. কাউসার খান, মার্কেটিং বিভাগের মো. আওলাদ হোসেন, নাসরিন আকতার ঝুমুর, খালেদা আকতার, জাহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী ও তানজীনা ইয়াসমিন, সিএসই বিভাগের মেশকাত জাহান ও তাপসী গোস্বামী এবং আইসটি বিভাগের আমেনা বেগম, নাবিলা মেহজাবিন ও মোহাম্মদ কামরুল হাসান। মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এর সঞ্চালনায় সম্মাননা হিসেবে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে