দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রেস্তোরাঁ, গণপরিবহন ও পর্যটন কেন্দ্রে জনসমাগম কমানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এখনই লকডাউনের কোন নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম।

গত ২৪’ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৭১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার হয়েছে ৮.২৯ শতাংশ। একদিনে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ২৬ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৫২ জন। গতকালও ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এতে গত দুই দিনে অর্ধশতাধিক মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি আরো জানান, বিদেশ থেকে যারা আসছেন, তাদের কঠোরভাবে কোয়ারেন্টিন মানতে হবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলো প্রস্তুত আছে বলেও জানান তিনি। এদিকে, এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়েছেন ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৫৪ জন। আর টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন, ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭০৬ জন। মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অরিতিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনা বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত দেশে মোট ৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৮৭ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আর মারা গেছেন ৮ হাজার ৫৯৭ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৭৯জন। করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী মারা গেছেন। এতে জানানো হয়েছে, সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২১৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১১৮টি, জিন-এক্সপার্ট ২৯টি, র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন ৭২টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২০ হাজার ৯৩৬ জনের। আর পরীক্ষা করা হয়েছে ২০ হাজার ৭৪৮ জনের। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৩ লাখ ৩ হাজার ৯৯৪ জনের। গত বছর ৮ মার্চ করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার এক বছর পর গত ৭ মার্চ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দু-এক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তবে চার সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী।

করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়াল টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

উল্লেখ্য, বছরের ১৮’ই মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ১১ মার্চ তা সাড়ে আট হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনে ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে