মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র আর মানসিক হাসপাতাল মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। কেউ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে চালাচ্ছে মানসিক হাসপাতাল আবার অনেকে ঠিক উল্টো। এদের বিরুদ্ধে রোগীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখে গেছে, অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালই সরকারের দেয়া লাইসেন্সের শর্তও মানছে না। শয্যাসংখ্যা অনুপাতে যে সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা, সেটা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অন্য হাসপাতালই বাইরের চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। এক-দুজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে মূলত হাসপাতাল চালানো হয়। আরো দেখা গেছে, বেশির ভাগ হাসপাতালে মানসিক রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু ওষুধ নয়, এসব রোগীর নিয়মিত মানসম্পন্ন কাউন্সেলিং দেওয়ার দরকার হয়। তা দেয়ার মতো জনবলও নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, লাইসেন্সের শর্তানুযায়ী ১০ শয্যার মানসিক হাসপাতাল চালাতে সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স ও তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাখা বাধ্যতামূলক। শয্যা যত বেশি, আনুপাতিক হারে এই সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু অধিকাংশ এই সব কেন্দ্রের বেশির ভাগই লাইসেন্সের শর্ত মানছে না। যেমন মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডের বি ব্লকে অবস্থিত ঠিকানা সাইক্রিয়াটিক অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডিকশন এক অনুমোদিত মানসিক হাসপাতাল। ২০ শয্যার এই হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসক, ১২ জন নার্স ও ৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা। কিন্তু এই সংখ্যক জনবল সেখানে নেই।

রাজধানীর মুক্তি মানসিক হাসপাতাল ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র অনুমতি নিয়েছে মাদকাসক্ত নিয়াময় কেন্দ্র হিসেবে কিন্তু চিকিৎসা দিচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের। যা পুরোপুরি বেআইনি। নিরাময় কেন্দ্রেটির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, আছে টর্চার সেল, করা হয় সেখানে নির্যাতন। ২০১৬ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। মুক্তি মানসিক হাসপাতাল ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিফ কনসালটেন্ট ডা. এ এ কুরাইশী জানান, নির্যাতনের সব অভিযোগ মিথ্যা। এই হাসপাতালের বয়স ৩৩ বছর। এ রকম কিছু হলে এই হাসপাতাল এতো বছর চলতে পারতো না।

কল্যাণপুরের কল্যাণ মানসিক হাসপাতাল। এটির আবার আছে স্বাস্থ্যের লাইসেন্স কিন্তু অনুমতি নেই মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের। ১০ বেডের হাসপাতালে রোগী আছে ২০ জন। এদের মধ্যে আছে মাদকসেবীও। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলোরও বেহাল অবস্থা বিদ্যমান। ঢাকা উদ্যানের নিউ তরীতে গিয়ে দেখা গেল ১৫ বেডের হাসপাতালে ৪০’জন রোগী রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, যদি কারো চিকিৎসা হয়, সেটা যেকোনো ধরণের হোক অর্থাৎ মানসিক বা অন্য যেকোনো রোগের চিকিৎসা হোক সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতিহীন প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জয় কুমার চৌধুরী জানান, যারা মাদকাসক্তের চিকিৎসার অনুমতি নিয়ে অন্য কোনো কার্যক্রম চালায় এমন কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তাদের অনুমোদন বাতিল করে দেব। ঢাকায় ১০৫টিসহ সারা দেশে ৩৫১টি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও মানসিক হাসপাতাল রয়েছে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে