রিফাত ইসলাম, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি ।। গোপালগঞ্জে জাতির পিতা নামাঙ্কিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) প্রাক্তন ভিসি নাসিরউদ্দীনের দায়িত্ব অবহেলার কথা জানালেন নবনিযুক্ত ভিসি ড. এ কিউ এম মাহবুব। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে দৈনিক বার্তা ২৪ কে জানান, “বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটি উন্মুক্ত পরিবেশের জায়গা।

যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় সকল জিনিসের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। যেখানে থাকবে ক্লাস রুম সুবিধা, ল্যাব সুবিধা, আবাসন সুবিধা, জিমসহ প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ সুবিধা। কিন্তু জাতির পিতা নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমি পরিলক্ষিত করি এখানে নেই তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা, জাতির পিতার কোন ম্যুরাল নেই, নেই কোন টিএসসি চত্ত্বর, নেই প্রতিভা বিকাশের প্রয়োজনীয় মাধ্যম।” তিনি বলেন, “গত ১৯সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নাসির উদ্দীন ভিসি পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়, তারপর ৬মাসের মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল’ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার কিন্তু আজ ১বছর হয়ে গেলও বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুবন্ধু ম্যুরাল তৈরি করা হয়নি।ভারপ্রাপ্ত ভিসি চেষ্টা করলে ম্যুরালটি তৈরি করতে পারতেন।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল’টি তৈরি করা যেতো এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিজস্ব একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করা যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব ফান্ড আছে কিন্তু সেটিও করা হয়নি। তিনি আরও জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় একটি পরিচয় হলো তার প্রবেশ গেইট কিন্তু সেটাও করা হয়নি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অত্যাধিক বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে যেগুলো আজ সংরক্ষণের অভাবে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংরক্ষণের জায়গার অভাবে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ আজ নষ্ট হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ভাবে সরকারি টাকা খরচ না করে চাইলেই সেগুলো দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যকোন দিকে উন্নয়ন করা যেত। এতে করে জাতির পিতার নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির সুনাম বৃদ্ধি পেত।”

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি চত্ত্বর আছে কিন্তু এখানে সেটি নেই। সরকারতো প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা করে কোটি কোটি টাকা বাজেট দিচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় কোষাগারে অনেক টাকা জমা আছে, চাইলে সেগুলো দিয়ে টিএসসি চত্ত্বর করা যেত কিন্তু সেটিও করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন বাস রাখার জন্য গ্যারেজ তৈরি করা হয়েছে কিন্তু আজ সেটি পরিত্যক্ত। গ্যারেজে বাস না রেখে সেগুলো অন্যত্র রাখা হচ্ছে যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেদিকে কোন লক্ষ্যই রাখেননি। মূলত দায়িত্ব অবহেলার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনটি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বশেমুরবিপ্রবিতে শুধু এসব সমস্যাকেই তিনি বড় মনে করছেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ে আভ্যন্তরীন অনেক সমস্যা রয়েছে, সেইসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কম্পিউটার চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত কর্মীরা তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করেনি এবং বর্তমানেও করছেনা। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে