বিশ্বব্যাপি মহামারী কোভিড-১৯ এর পরিস্থিতিতে মন্থর হয়ে আছে জীবনযাত্রা। কিন্তু থেমে নেই কিছুই। তাই যেভাবেই এবং যতটুকুই হোক, জীবনকে এগিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চলমানবিশ্বের প্রতিটি প্রান্তেই।
বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস্ বাংলাদেশ (ইউল্যাব) দুর্বার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার। এই ধারাবাহিকতায় ইউল্যাব-এর সামার ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনলাইন প্লাটফরম জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় ১’লা জুলাই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এমপি, ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আপনারা খুব সৌভাগ্যবান যে ইউল্যাবের মতো এরকম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারছেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়টি ওয়ার্ল্ডস ইউনিভার্সিটিজ উইথ রিয়েল ইমপ্যাক্ট (ডব্লিউইউআরআই) র্যাংকিং ২০২০-এ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাপ্লিকেশন ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। আমরা যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনি যেমনঃ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এরকম বিশ্বের একেবারে প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই ক্যাটাগরির মধ্যে আছে, কাজেই আমি মনে করি ইউল্যাবের এই সাফল্য আমাদের পুরো দেশকে, আমাদের শিক্ষাকে, শিক্ষাক্ষেত্র সহ সকলকেই গৌরবান্বিত করেছে”। এই অর্জনে তিনি ইউল্যাবের উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “আপনারা সৌভাগ্যবান যে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ যাত্রা শুরু করছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক কায়সার হক, অধ্যাপকসলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক ইমরান রহমান-এর মতো দেশ বরেণ্য শিক্ষক রয়েছেন”।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সব সংকটের মধ্যেই অনেক সম্ভাবনা থাকে, সেই সম্ভাবনাকে আমরা কতটুকু কাজে লাগাতে পারছি তার উপর নির্ভর করবে আমরা কতটা সফল হবো। এই সময়ে পারিবারিক বন্ধনকে সমৃদ্ধ করতে আমরা এই সময়কে ব্যবহার করতে পারি, আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা করতে পারি। যারা অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে আছেন, আমরা স্বাস্থ্য বিধি মেনে একে অন্যের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি, পরিবার, বাবা-মা, ভাইবোনের পাশে দাঁড়াতে পারি”।করোনা সংকট কেটে গেলে পেছনে ফিরে তাকিয়ে আমরা যখন টুয়েন্টি টুয়েন্টি দেখবো তখন যেন আমাদের স্মৃতি হতাশার না হয় সেজন্য করোনার এই
সময়টাতে কিছু দক্ষতা অর্জন করার তাগিদ দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “লিবারেল আর্টসের যে কনসেপ্ট হিউম্যানিটিজ, স্যোসাল সায়েন্সেস, ন্যাচারাল সায়েন্সেস, আর্টস, এগুলো সব মিলিয়ে ইউনিভার্সাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি করবার যে একটা ইচ্ছা, একটা আকাঙ্ক্ষা এবং জ্ঞান অর্জন করা এবং সেই জ্ঞানের মধ্য দিয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, লিবারেল আর্টসকে সেভাবেই দেখা হয়। লিবারেল আর্টস সেভাবেই একজন মানুষকে তৈরি করে।
ইউল্যাব জ্ঞান চর্চার একটা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে, আমাদের দেশে যেরকম মানবসম্পদ প্রয়োজন সেরকম মানবসম্পদ হয়ে আপনারা তৈরি হবেন”। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে কাজ করার পাশাপাশি দেশ ও জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন তার বক্তব্যে বলেন “আজকে যারা এই গ্রাজুয়েশন ডিগ্রীর জন্য যাত্রা শুরু করছেন, তাদের জীবনে আজকের এই অনুষ্ঠানটি খুব স্মরনীয় হয়ে থাকবে। এই দিনটি আপনাদের স্মৃতিতে এই জন্য থাকবে যে এই বরেন্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি, তাদের তরফ থেকে যে সব মুল্যবান বক্তব্য আপনারা শুনছেন, জীবনের যে সব টিপস আপনারা পাচ্ছেন, এটি কিন্তু আপনাদের বড় সম্পদ, বড় একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে পরর্বতী জীবনে”। তিনি আরও বলেন, “শুধু ডিগ্রী আমাদেরকে কিন্তু সমাজ, জীবনে প্রতিষ্ঠা দিবেনা, পরিচিতি দিবে না। আমাদের কর্ম কিন্তু সবসময় আমাদের প্রতিষ্ঠা দেয়, পরিচিতি দেয়। ডিগ্রী হলো তার একটি উপকরন। ডিগ্রীকে আমি ভিত্তি ধরবো কিন্তু আমার মূল লক্ষ্য হলো এইটি পুর্নাঙ্গ দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়া, দায়িত্বশীল মানুষ হওয়া। যার মাধ্যমে আমি নিজের জন্য অবশ্যই মঙ্গল, নিজের আর্থিক, সামাজিক প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা
করব,পাশা পাশি এই সামাজিক, আর্থিক প্রতিষ্ঠায় আমাকে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আমার দায়িত্বশীলতার কথা স্মরন রাখব। সেই ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয় (ইউল্যাব) ইতিমধ্যেই খুব ইতিবাচক ভুমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, এমপি, এবং জাতীয় অধ্যাপক ড রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইউল্যাব-এর উপাচার্য ড. এইচ এম জহিরুল হক। তিনি শিক্ষার্থীদের সকলের এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সুস্থতা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে তাগিদ দেন এবং একই সাথে, তিনি মতামত দেন জীবনের জন্য আর সকল কিছুর মত শিক্ষার প্রয়োজনও অপরিসীম। তিনি ইউল্যাবের সকল শিক্ষার্থীকে একতাবদ্ধ থাকার বিষয়ে উৎসাহিত করেন।
ইউল্যাবের সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন প্রিয়াংকা চৌধুরী। ইউল্যাবের কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতাকে উদাহরণ হিসেবে তিনি ইউল্যাবের শিক্ষা বর্তমান প্রেক্ষাপটে কতটা কর্মমুখী, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। নতুন শিক্ষার্থীদের ইউল্যাব সম্পর্কে জ্ঞাতার্থ করেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর বিশেষ উপদেষ্টা ও ইউল্যাব স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ইমরান রহমান।
ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আনিস আহমেদ, ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর সদস্য আমিনা আহমেদ ইউল্যাবের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তুজা, ট্রেজারার অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্য, রেজিস্ট্রার লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ফয়জুল ইসলাম সহ সকল বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মকর্তাগণ অনালাইন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোন ধরণের জনশক্তির গুরুত্ব বেশি এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে ইউল্যাব এই জনশক্তি তৈরীতে কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন, সেই বিষয়ে প্রত্যেকেই জোর দেন। মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় ইউল্যাবের সামগ্রিক গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে তাঁর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























