দেশে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কম থাকায় রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার আশঙ্কা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। মাত্র এক দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে টিকাদান কর্মসূচির স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে করানোর নমুনা সংগ্রহে বাড়ছে বিপদ। এ কারণেই করোনা পরীক্ষার ফলে বাড়ছে ভুল-ভ্রান্তি বাড়ছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। তবে, আশার কথা এরইমধ্যে ১২শ’ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি একজন চিকিৎসকের বিপরীতে ৩ জন নার্স এবং ৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকা প্রয়োজন। সে হিসাবে দেশে ৭০ হাজার চিকিৎসকের বিপরীতে টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন সাড়ে তিন লাখ। অথচ আছে মাত্র চাহিদার দুই দশমিক দুই ছয় শতাংশ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১৯ ক্যাটাগরিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ ৭ হাজার ৯’শ ২০টি। অথচ কর্মরত ৫ হাজার ১’শ ৮৪ জন। পদ শূন্য ২ হাজার ৭৩৬টি। করোনার মতো সংক্রামক রোগ নির্ণয়ে সক্ষম টেকনোলজিস্টের পদ ২ হাজার ১’শ ৮২টি। কিন্তু কর্মরত ১ হাজার ৪’শ ১৭ জন। পদ শূন্য ৭৬৫টি।

করোনার সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন দেশজুড়ে ৪১টি ল্যাবরেটরিতে চলছে নমুনা পরীক্ষা। সক্ষমতা বাড়াতে দেশজুড়ে কাজ করছেন স্বল্পপ্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্টরা। কেননা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় ১২ বছর ধরে নিয়োগ বন্ধ এই পদে। ফলে প্রশিক্ষিত ১৫ হাজার টেকনোলজিস্ট দীর্ঘদিন বেকার। এক দিনের প্রশিক্ষণ পাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের এনাটমি ও ফিজিওলজি সম্পর্কে ধারণা কম। বিএমটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, সঠিকভাবে পরীক্ষা করতে না পারলে একদিক যেমন রোগীর ক্ষতি হতে পারে, অন্যদিকে নমুনা সংগ্রহকারীও পড়তে পারেন করোনা ঝুঁকিতে। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় নিয়োজিত ৩৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনার নমুনা সংগ্রহ ও ফল নির্ণয়ে অদক্ষ টেকনোলজিস্টরা কাজ করায় ভুলের হার বাড়ছে। তাই দ্রুত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘাটতি মোকাবিলায় শিগগিরই মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ১২শ’ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে