ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃচিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতলের শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন ) ডাক্তার দেবাশীষ আচার্যী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের দীলিপ আচার্যীর ছেলে তিনি।বুধবার মিটফোর্ড হাসপাতলের ১২ জন শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন ) ডাক্তারের নমুনা পরীক্ষায় কোভিড ১৯ পজেটিভ আসে। এর মধ্যে দেবাশীষ একজন।

নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট কেভিড ১৯ পজেটিভ আসার পর নিজস্ব ফেসবুক টাইম লাইনে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন ) ডাক্তার দেবাশীষ আচার্যী। নয়াগিগন্ত পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলঃ

‘গতকাল করোনা টেস্টের রিপোর্ট পেলাম। কোভিড ১৯ পজিটিভ আসছে আমার। জিসান রাতে ফোন দিয়ে জানাল সেই খবরটা। খানিকক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলাম,কি হবে না হবে এইসব ভেবে।পাশ করার পর ইন্টার্নশিপ শুরু করি যখন, তখন আমাদের সবাই মোটামুটি একটা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। সবাই সবার মত সাবধানে ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা ১২ জন ইন্টার্ন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হলাম। আমাদের মিটফোর্ড হাসপাতাল, যা এক প্রকার ভালোবাসার জায়গা ছিল আমাদের সবার, সেই হাসপাতাল সবার জন্য আতঙ্কের জায়গা হয়ে দাড়াল।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পুরোপরি আইসোলেশনে থাকব। শারীরিক কোন অসুবিধার চেয়ে মানসিক কষ্টটা বেশি, সম্পূর্ণ একা থাকা এই ব্যাপারটা। সবার আশীর্বাদ চাই, যেন আবার সুস্থ’ হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারি।জীবনে যা কিছুই আসুক নিজের দায়িত্ব পালনে পিছিয়ে যাব না কখনো। হাসপাতালে আসা আবার সেই অসহায় মানুষগুলোর পাশে থাকতে চাই।’

ফেসবুকের স্ট্যাটাসে দেবাশীষের কোভিড ১৯ আক্রান্তের পর তার স্বজন ও এলাকার শুভানুধ্যায়িরা তার প্রতি ভালবাসা জানিয়ে এবং অভয় দিয়ে পাল্টা স্ট্রাটাস দিচ্ছে।উল্লেখ্য ডাক্তার দেবাশীষ দাসের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থাকেন।

জহির  সিকদার
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে