ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে পিসিআর পরীক্ষায় পজিটিভ আসা ওই নারী চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত নন।সোমবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের পিসিআর রিপোর্টে ওই নারী চিকিৎসকের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। শুধু ওই নারী চিকিৎসকই নয়, তার স্বামী অপর চিকিৎসকেরও পিসিআর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তার স্বামী ময়মনসিংহে একজন নিউরোলজি চিকিৎসক। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দেবগ্রামে।
ওই নারী চিকিৎসকের স্বামী জানিয়েছেন, গত ১১ এপ্রিল ওই নারী চিকিৎসক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিসিআর পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল প্রদান করেন। গত ১৪ এপ্রিল তার পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। স্যাম্পল দেওয়ার পর ওই নারী চিকিৎসক তার স্বামীর কাছে ময়মনসিংহে চলে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় জানতে পারেন তিনি করোনায় আক্রান্ত।
এই খবর জানার পর তিনি ও তার স্বামী অপর চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে নমুনা পরীক্ষার জন্য। গত ১৫ এপ্রিল হাতে পাওয়া সেই নমুনার পিসিআর রিপোর্টে দুইজনের নেগেটিভ আসে। পূনরায় গত ১৮ এপ্রিল চিকিৎসক দম্পতি পিসিআর পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। তার রিপোর্ট সোমবার আসলে জানা যায় দুইজনেরই নেগেটিভ। এরপরই এখন বলা যায় তারা করোনা আক্রান্ত নন।
এদিকে, ওই নারীর চিকিৎসকের প্রথম রিপোর্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পজিটিভ আসার পর ময়মনসিংহে মেডিকেল টিম তাদের বাসায় যান। তাদের বাসায় মেডিকেল টিম যাওয়ার পর ওই এলাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নের্তৃত্বে চিকিৎসক দম্পতিকে বাঁধার মুখে পড়তে হয়। এরপর চিকিৎসক দম্পতি রাতের আধারে তাদের ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এলাকাটি করে দেওয়া হয় লকডাউন। বাসা ছেড়ে দেওয়ার পর চিকিৎসক দম্পতির ঠিকানা হয় ময়মনসিংহের একটি আইসোলেশন সেন্টারে। সেই আইসোলেশন সেন্টারে তারা এখনো আছেন বলে জানান সেই নারী চিকিৎসকের স্বামী।
এই বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম স্বপন জানান, ওই নারী চিকিৎসকের রিপোর্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পজিটিভ এসেছিল। তিনি ময়মনসিংহে তার স্বামীর সাথে থাকায় পরবর্তীতে তাদের দুইজনের নমুনা পিসিআর পরীক্ষা করা হয়। ময়মনসিংহের তাদের দুইজনের রিপোর্ট দুইবার পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে। এখন ওই নারী কিউর ও তার স্বামী নট ইনফেক্টেট।তিনি আরও বলেন, রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও তাদেরকে একসপ্তাহ থেকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তারপর তারা কাজে যোগদান করতে পারবেন।
জহির সিকদার
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














