ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। তিনি বলেন, বিজ্ঞানী হওয়া আবশ্যক, তবে সমাজ, রাষ্ট্র এবং সভ্যতার প্রয়োজনে বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া আরো বেশি জরুরী।
তিনি বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞানমনস্কতার উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর একজন প্রিয় ব্যক্তি ছিল বারট্রান্ড রাসেল। পশ্চিমের ২০ শতকের অন্যতম সেরা চিন্তক এবং ভাবক হচ্ছেন বারট্রান্ড রাসেল। বঙ্গবন্ধু বারট্রান্ড রাসেলের এতই অনুরাগী ছিলেন যে তাঁর কনিষ্ঠ পুত্রের নাম বারট্রান্ড রাসেলের নামের সাথে মিল রেখে ‘শেখ রাসেল’ রেখেছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজ্ঞানমনস্কো চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। দেশের প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল শিক্ষার উন্নয়নের জন্য তিনি অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। আজকে আমরা যে স্যাটালাইট যুগে প্রবেশ করেছি তা বঙ্গবন্ধুরই তৎকালীন চিন্তার ফসল। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আজ বিদায়ী শিক্ষার্থীরা নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করছে। এ জগতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলতে হবে। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে সফলতার সাথে দেশ এবং বিশ^বিদ্যালয়ের মুখ উজ¦ল করবে এই প্রত্যাশা করি।
আজ মঙ্গলবার সকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়োজনে, ‘বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা এবং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন।
বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মিন্নাতুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তা করতেন। তিনি কৃষি, কারিগরী, বিজ্ঞান এবং মেডিকেল ভিত্তিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আজ তাঁরই কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা গর্বিত বিভাগের শিক্ষার্থী। আজ আমরা পৃথিবীব্যাপী যে হ্যাপাটাইটিস বি ভাইরাসের ভ্যাক্সিন ব্যবহার করছি, যে ইনসুলেন্স ব্যবহার করছি তার আবিস্কার হয়েছে তোমাদের এই বিভাগের মাধ্যমে। আশারাখি আগামীতে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন তোমাদের মাধ্যমেই আবিস্কার হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজিবুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন বিদায়ী ছাত্রী মঞ্জুরা খাতুন লাবনী। সভা পরিচালনা করেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা জামাল। সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ
























