ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ এই স্লোগানটি পরবর্তীতে বাংলা ভাষার রাষ্ট্্র চাই বাস্তবতায় রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্রটি অস্তিত্ববান হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ’র মধ্যদিয়ে তা বাস্তবায়িত হয়।
১৯৭২ সালের সেই রাষ্ট্রটির মহান সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ২০০ ভাষণ রয়েছে এমনকি আমাদের দেশের অনেক কবি সাহিত্যিকদের অসংখ্যা লেখা রয়েছে যা অন্য ভাষায় অনুবাদ না হওয়ায় কারণে বিশ্ববুকে স্থান করে নিতে পারেনি। তাই মাতৃভাষার পাশাপাশি আমাদেরকে অন্য ভাষাও জানতে হবে। ২১ শতকের এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষকে মাতৃভাষার সাথে সহায়ক ভাষা জানার কোন বিকল্প নেই। ভিসি বলেন, আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে অন্য ভাষা যেন আগ্রাসনের স্বীকার না হয়।
আজ শনিবার দুপুরে বাংলা মে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন।
ছাত্র-উপদেষ্টা ও একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে দিয়েছেন ভাষার স্বাধীনতা, দিয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় আজ বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ এ দিনটি পালিত হচ্ছে।
অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারিতে মুজিববর্ষের ছোঁয়া লাগায় এ বছর মাতৃভাষা দিবস ভিন্ন মাত্রিকতা পেয়েছে। তিনি বলেন, একুশ আমাদের সাহস যুগিয়েছিল। একুশের এই সাহসই আমাদের মুক্তির আন্দোলনকে সফল করে তুলেছিল।
সভায় প্রধান আলোচক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর প্রফেসর শামসুজ্জামান খান বলেন, ষোড়শ শতাব্দী থেকে ভাষার আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১৯১৮ সালে বাংলা সাহিত্যের শক্তিশালী ভিত রচিত হয়। ১৯২৬ সালে ‘শিখা’ পত্রিকার মাধ্যমে মুক্তবুদ্ধি চিন্তা শুরু হয়। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান ও ভারত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উঠে। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালের ৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু মাতৃভাষা অধিকার, জমিদারি প্রথা বাতিল এবং প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে লিফলেট প্রচার করেছিলেন। এ ঘটনায় বোঝাযায় বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সাল থেকেই ভাষার আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ। সভা সঞ্চালনায় ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিরিন আক্তার বিথি।
























